লিভারপুলের হয়ে মিশরীয় তারকা ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহর নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি অস্বস্তিকর রেকর্ড। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সালাহ শুরুর একাদশে থাকা সর্বশেষ আট ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই হারেছে লিভারপুল, যা ক্লাবের ইতিহাসে দীর্ঘ ১৪ বছর পর দেখা এমন হতাশাজনক ফলাফল। শেষবার এই ধরনের পরিস্থিতি ঘটেছিল ২০১২ সালে, যখন ডার্ক কুইট কোচের অধীনে লিভারপুল নিয়মিত পয়েন্ট হারাচ্ছিল।
ব্যক্তিগতভাবে সালাহ গত কয়েক সপ্তাহে ভালো ছন্দে ছিলেন। তিনি আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সে মিশর জাতীয় দলের হয়ে খেলে ফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন, এবং টুর্নামেন্ট শেষে লিভারপুলে ফিরেন। ক্লাবের হয়ে তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগে মার্সেইয়ের বিপক্ষে ৩–০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রিমিয়ার লিগে বোর্নমাউথের বিপক্ষে প্রথম একাদশে নামলেও লিভারপুল ৩–২ ব্যবধানে হেরে যায়, এবং এই পরাজয় সালাহকে যুক্ত করেছে একটি বিব্রতকর রেকর্ডে।
সালাহ শুরু করা সর্বশেষ ম্যাচগুলোর ফলাফল নিম্নরূপ:
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | ফলাফল | সালাহ গোল |
|---|---|---|---|
| ১৪/১২/২০২৫ | ক্রিস্টাল প্যালেস | ১–২ হার | ০ |
| ২০/১২/২০২৫ | চেলসি | ০–১ হার | ০ |
| ২৭/১২/২০২৫ | ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড | ১–৩ হার | ০ |
| ০২/০১/২০২৬ | ব্রেন্টফোর্ড | ২–৪ হার | ০ |
| ০৯/০১/২০২৬ | ম্যানচেস্টার সিটি | ০–২ হার | ০ |
| ১৬/০১/২০২৬ | নটিংহাম ফরেস্ট | ১–২ হার | ০ |
| ২৩/০১/২০২৬ | বোর্নমাউথ | ২–৩ হার | ০ |
| ৩০/০১/২০২৬ | অ্যাস্টন ভিলা | ২–০ জয় | ১ |
সাম্প্রতিক এই পরাজয়মালা ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি–মে সময়ের পারফরম্যান্সের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তখন কেনি ডালগ্লিশের অধীনে লিভারপুল শুরুর একাদশে থাকা ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট হারিয়েছিল, এবং মৌসুম শেষ হয়েছিল অষ্টম স্থানে, যার পরিসরে ডার্ক কুইট ক্লাব ছাড়েন।
বর্তমানে লিভারপুল প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে ছয় নম্বরে, ২৩ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৩৬ পয়েন্ট। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের থেকে তারা পিছিয়ে ১৪ পয়েন্টে, এবং দ্বিতীয় স্থানে আছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই অবস্থায় চলতি মৌসুমে লিভারপুলের জন্য অগ্রগতি ও টাইটেলপ্রত্যাশা সীমিত মনে হচ্ছে, বিশেষ করে যখন তাদের মূল ফরোয়ার্ড সালাহ থাকলেও দলের জয় হারানোর হার খুব বেশি।
ক্লাব সমর্থকরা আশা করছেন, লিভারপুল কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা দ্রুত সমন্বয় এবং রণনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পাবেন। অন্যথায়, ১৪ বছরের পুরনো রেকর্ড আবারও বিস্তারিত স্মরণীয় হয়ে থাকবে।