ঢাকা: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র উপশাখাসমূহে আমানতের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ছুঁয়েছে, যা এক বছরের মধ্যে ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ বর্তমানে ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা পৌঁছেছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংকের শক্তিশালী অবস্থান প্রতিফলিত করছে।
ব্যাংক সূত্র জানায়, প্রবাসী বাংলাদেশীদের আস্থা ও সমর্থনের ফলস্বরূপ ইসলামী ব্যাংক ১৮ বছর ধরে দেশের রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষে রয়েছে। ২০২৫ সালে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
এছাড়া, ব্যাংকের গ্রাহকসংখ্যা বর্তমানে ৩ কোটি, যা গত এক বছরে ৫০ লাখের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাহকসেবার সম্প্রসারণে ব্যাংকের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন সেবা কেন্দ্রের তথ্য নিম্নের টেবিলে সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| সেবার ধরন | সংখ্যা |
|---|---|
| প্রধান শাখা | ৪০০টি |
| উপশাখা | ২৭১টি |
| এজেন্ট আউটলেট | ২,৭৮৮টি |
| এটিএম/সিআরএম বুথ | ৩,০৪০টি |
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র উপশাখা ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. ওমর ফারুক খাঁন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. আলতাফ হুসাইন এবং ড. এম কামাল উদ্দীন জসীম, এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. মাহবুব আলম।
ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. ওমর ফারুক খাঁন বলেন, “দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংকের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ব্যাংক সর্বাধিক আমানত ও রেমিট্যান্স সংগ্রহে দেশের ব্যাংকিং খাতে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ইসলামী ব্যাংক একটি শক্তিশালী, শরী’আহসম্মত, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিপালনভিত্তিক আধুনিক ব্যাংক হিসেবে গড়ে উঠতে কাজ করছে। আমাদের স্লোগান ‘ইনোভেশন অ্যান্ড ডিজিটাইজেশন ড্রাইভিং ট্রান্সফরমেশন’, যা ব্যাংকের সকল সেবায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে।”
সম্মেলনে প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীসহ ২৭১টি উপশাখার ইনচার্জরা অংশগ্রহণ করেন, যা ব্যাংকের গ্রাহকসেবা সম্প্রসারণ ও নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।
