১০ লাখ পরিবারকে রোজায় কম দামে দুধ, ডিম ও মাংস দেবে সরকার

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেশের প্রায় ১০ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানীর ২৫টি নির্দিষ্ট স্থানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যা অসহায় ও দারিদ্র্যসীমার মানুষদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীতে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “এবার ১০ লাখ পরিবার এই সুযোগ পাবেন। বিক্রয় কার্যক্রম রাজধানীর উত্তরা, আজিমপুর, মিরপুরসহ মোট ২৫টি স্থানে শুরু হয়েছে এবং পুরো রমজান মাস জুড়ে চলবে।”

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সততা, নিষ্ঠা ও সমন্বিত টিমওয়ার্কই আমাদের মূল শক্তি।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)-এর সভাপতি মশিউর রহমান, এবং বাংলাদেশ ক্যাটল অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএফএফএ)-এর সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। এছাড়াও, মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রমজান মাসে প্রতি পরিবারের জন্য নিম্নলিখিত ভর্তুকিপূর্ণ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে:

পণ্যপ্রতি ইউনিট মূল্য (টাকা)লক্ষ্যপরিমাণ (প্রতি পরিবার)
দুধ (১ লিটার)৫০১০ লিটার
ডিম (১২ টি)৯০২ বোতল (২৪ টি)
মাংস (গরুর/মুরগির)৪০০২ কেজি

সরকারের এই উদ্যোগে প্রায় ১০ লাখ পরিবার উপকৃত হবে। বিশেষভাবে নগর অঞ্চলের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এই প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপকরণ সহজলভ্য দামে পাবে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আশা করছে, এটি দেশের পুষ্টি ঘাটতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

উল্লেখযোগ্য যে, রাজধানীজুড়ে চলমান এই সুলভ বিক্রয় কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোক্তারা সরাসরি সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত পণ্যের সুবিধা পাবেন, যা মধ্যস্বতন্ত্র চক্র দূর করে সঠিক মূল্যে পণ্য পৌঁছাতে সহায়ক হবে।

এ ধরনের উদ্যোগ দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য রমজানের সময় প্রোটিন চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে এবং সরকার আশা করছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।