হ্যাম্পশায়ারে ডমিঙ্গোর নতুন মিশন

বাংলাদেশের সাবেক প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ইংল্যান্ডের কাউন্টি দল হ্যাম্পশায়ারের প্রধান কোচ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। দুই বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করে দক্ষিণ আফ্রিকার এই অভিজ্ঞ কোচ আবারও আলোচনায় এলেন। তার নিয়োগকে হ্যাম্পশায়ারের ক্রিকেট উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

ডমিঙ্গো শুধু হ্যাম্পশায়ারের হয়ে নয়, নিজ দেশের লায়ন্স দলের সঙ্গেও কাজ চালিয়ে যাবেন। গত ২০২৩ সাল থেকে লায়ন্সের কোচিং প্যানেলে যুক্ত থাকা ডমিঙ্গো এবার সময় ভাগ করে দুই দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকবেন। তার অভিজ্ঞতা আরও কাজে লাগবে পাকিস্তান সুপার লিগসহ অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও।

হ্যাম্পশায়ারের কোচিং প্যানেলে এবার বেশ বড় আকারের পরিবর্তন এসেছে। আড্রিয়ান বেরেলের বিদায়ের পর ক্লাবটি নতুন করে অভিজ্ঞ কোচিং দলের দিকে ঝুঁকেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার শেন বার্গারকে বোলিং কোচ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের জিমি অ্যাডামসকে ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পটভূমির তিন কোচ মিলে দলের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নতুন কৌশল তৈরি করতে সক্ষম হবে—এমনটাই আশা করা হচ্ছে।

২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচিং করিয়েছেন ডমিঙ্গো। তার সময়ে বাংলাদেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেও দলের ভেতরকার সামঞ্জস্যহীনতা, নেতৃত্বদানের দুর্বলতা এবং খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণাহীনতা নিয়ে তিনি সমালোচিত হন। তবে তার কৌশলগত চিন্তাভাবনা, বিশ্লেষণধর্মী কোচিং এবং ম্যাচ পরিকল্পনা তৈরির দক্ষতা এখনও প্রশংসিত।

হ্যাম্পশায়ার সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে ধারাবাহিকভাবে মাঝামাঝি পর্যায়ে অবস্থান করছে। ব্যাটিং ব্যর্থতা, চাপ সামলাতে না পারা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নেওয়ার ঘাটতি দলের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডমিঙ্গোর নেতৃত্বে এসব সমস্যা নতুনভাবে বিশ্লেষণ করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

কাউন্টি ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে। প্রতিটি দলই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার ছোঁয়া চায়। তাই হ্যাম্পশায়ার ডমিঙ্গোর অভিজ্ঞতাকে দলের রূপান্তরের সুযোগ হিসেবে দেখছে। তার লক্ষ্য থাকবে দলকে শুধু জয়ী করা নয়, বরং একদল ঘরোয়া তারকাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্যও প্রস্তুত করা।