হোলি উৎসবে অতিরিক্ত মদপানে যুবকের মৃত্যু

নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায় হোলি উৎসবকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত মদপানের ঘটনায় নাঈম (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে প্রশাসন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব হোলি উদযাপন চলছিল। প্রতিবছরের মতো এ বছরও রঙের উৎসবকে ঘিরে গ্রামটিতে আনন্দ-উল্লাসের পরিবেশ তৈরি হয়। তবে উৎসবের এই আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন চার বন্ধু একসঙ্গে হোলি উদযাপনের সময় মদ্যপান করেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত পরিমাণে মদ পান করেন। কিছুক্ষণ পরই তাদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জানান, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চারজনকেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১১ মার্চ) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে নাঈম মারা যান। চিকিৎসকদের ধারণা, অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে তার শরীরে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, যার কারণে তার মৃত্যু ঘটে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে একই ঘটনায় অসুস্থ অনিল, মিলন ও পিয়াস এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক হলেও চিকিৎসকরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।

অসুস্থ ও মৃত ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত তথ্য

নামবয়সপিতার নামঅবস্থা
নাঈম২৩তথ্য নিশ্চিত হয়নিমৃত্যু
অনিল১৮সুনিলচিকিৎসাধীন
মিলন২৫বিকাশচিকিৎসাধীন
পিয়াস২১প্রণবচিকিৎসাধীন

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত মদপানের কারণেই নাঈমের মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানান, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কখনো কখনো অবৈধভাবে উৎপাদিত বা নিম্নমানের মদপানের কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাই মদের উৎস, মান এবং কোথা থেকে তা সংগ্রহ করা হয়েছিল—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত মদ্যপান করলে শরীরে ‘অ্যালকোহল পয়জনিং’ বা তীব্র বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে শ্বাসপ্রশ্বাস ধীর হয়ে যাওয়া, রক্তচাপ হ্রাস, অচেতনতা, খিঁচুনি এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে তা মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে।

স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় উৎসব বা সামাজিক অনুষ্ঠানে কখনো কখনো অসচেতনভাবে মদ্যপানের প্রবণতা দেখা যায়, যা অনেক সময় বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। তারা মনে করেন, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা জরুরি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উৎসব বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত মদ্যপান থেকে বিরত থাকার জন্যও স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে।