হোয়াইট হাউস জানালো: পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলের ‘বিরুদ্ধে’ ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সম্প্রসারণমূলক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পশ্চিম তীরের স্থিতিশীলতা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার হোয়াইট হাউস এই অবস্থান প্রকাশ করেছে।

গত রোববার ইসরায়েলের দক্ষিণপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ পশ্চিম তীরের অধিকৃত অঞ্চলে নতুন কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণে সহজলভ্য জমি নিশ্চিত করা হবে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এই বসতিগুলো অবৈধ হিসেবে বিবেচিত।

এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আটটি দেশ—মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এগুলো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধভাবে ইসরায়েলের কর্তৃত্ব সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য বহন করছে।

দেশপদক্ষেপের নিন্দামন্তব্যের সারমর্ম
মিসরপশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি রোধের আহ্বান
ইন্দোনেশিয়াফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষা প্রয়োজন
জর্ডানদ্বিরাষ্ট্র সমাধানের জন্য বাধা সৃষ্টি করছে
পাকিস্তানআন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান প্রয়োজন
কাতারঅবৈধ বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বান
সৌদি আরবফিলিস্তিনি স্বার্থ রক্ষার জন্য পদক্ষেপ
তুরস্কআন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ
সংযুক্ত আরব আমিরাতশান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা জরুরি

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন। মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, ইসরায়েলের পদক্ষেপ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করছে এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এছাড়াও যুক্তরাজ্য ও স্পেনও এই পদক্ষেপ সমালোচনা করেছে।

মহাদেশীয় ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার প্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলের নতুন বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার প্রতি সম্মত নন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা করছে, এই অবস্থান ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘর্ষ নিরসনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং পশ্চিম তীরে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে পুনরুজ্জীবিত করবে।