হাসানুল হক ইনু । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

হাসানুল হক ইনু (জন্ম: ১২ নভেম্বর ১৯৪৬) একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী । তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল তথা জাসদের একাংশের নেতা। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া তিনি ৬০ এর দশকের একজন নামকরা ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। তার বাড়ী কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা।

হাসানুল হক ইনু । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

হাসানুল হক ইনু । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

হাসানুল হক ইনু ১২ নভেম্বর ১৯৪৬ সালে নওগাঁ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা এইচ এম কামরুল হক ও মাতা বেগম হাসনাহেনা হক। তিনি আফরোজা হক রীনাকে বিয়ে করেন। তাদের ১ ছেলে প্রকৌশলী শমিত আশফাকুল হক।

ইনু রাঙামাটির চন্দ্রঘোনার কর্ণফুলী পেপার মিলস হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করে ১৯৭০ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এর পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে বিএসসি-ইন-কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী অর্জন করেন।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

রাজনৈতিক ও কর্মজীবন

হাসানুল হক ইনুর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তার পেশাগত জীবন কেটেছিল মাত্র ৬ মাস। তিনি ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের পূর্ব পাকিস্তান প্রকৌশল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক, ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০ সালে শহীদ সার্জেন্ট জহুর স্মরণে গঠিত জাসদ ছাত্রলীগের সার্জেন্ট জহুর বাহিনীর মার্চ পাস্টে নেতৃত্ব, ৭ জুন ১৯৭০ সালের ছাত্রলীগের জয়বাংলা বাহিনীর মার্চ পাস্টে নেতৃত্বসহ ২৩ মার্চ ১৯৭১ সালে পল্টনে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের নেতৃত্ব দেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তিনি ভারতের তান্দুয়াতে স্থাপিত বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ), পরবর্তী নাম মুজিব বাহিনী গেরিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ক্যম্প প্রধান ও প্রশিক্ষক হিসেবে ১০,০০০ মুক্তিযোদ্ধাকে গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষনের দায়িত্ব পালন করেন।

 

হাসানুল হক ইনু । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

তিনি ১৯৭২ সালে জাতীয় কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন, ৩১ অক্টোবর ১৯৭২ সালে গঠিত জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সহ সভাপতি ও ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ সালের অভ্যুত্থানে গণবাহিনীর উপপ্রধান ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবু তাহেরের সহকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।

তিনি ১৯৮৩ সালে সামরিক সরকার এরশাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি জাসদের সাধারণ সম্পাদক ও ৩১ অক্টোবর ২০০২ জাসদের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৪ দল ও মহাজোট গঠনেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ইনু ২০০৮ সালের নবম, ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৯ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে নৌকা মার্কা নিয়ে কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ সাল থেকে ৭ জানুয়ারি ২০১৯ সাল পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

খেলোয়াড় জীবন

৬০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের গোলরক্ষক হিসেবে বেশ সুনাম অর্জন করেন। পরবর্তীতে রাজনীতিতে অংশ গ্রহণের জন্য তিনি খেলোয়াড়ি জীবন ত্যাগ করেন।

 

হাসানুল হক ইনু । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

সমালোচনা

১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি এটি অস্বীকার করেন।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment