হালুয়াঘাটে পুলিশের ওপর হামলা, বাবা ও ছেলে আটক

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যা পৌর শহরের পাগলপাড়া এলাকায় সারা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে কনস্টেবল ইজাজুল হক এজাজ উপর হঠাৎ হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত প্রায় ১১টার দিকে কনস্টেবল এজাজ দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ছিলেন, তখন হামলাকারী রুহুল আমিন খান (৫৫) চরম বর্বরতা প্রদর্শন করে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।

হামলার সময় কনস্টেবল এজাজ আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করলেও তিনি গুরুতর জখম হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কনস্টেবল এজাজের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা চলছে এবং তার শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।

পুলিশ রাতেই প্রধান অভিযুক্ত রুহুল আমিন খানকে আটক করে। পরবর্তীতে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পৌর শহর থেকে রুহুল আমিন খানের ছেলে লিয়ন খানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। হালুয়াঘাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “মূল অভিযুক্ত এবং তার ছেলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্তকরণ কাজ চলছে। মামলার প্রক্রিয়া চলমান।”

স্থানীয়দের বক্তব্য, এই ঘটনায় পুরো এলাকায় ভয় ও অনিশ্চয়তার আবহ সৃষ্টি হয়েছে। তারা পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। হালুয়াঘাট থানা পুলিশ জানিয়েছে, চেকপোস্টের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা এড়াতে সতর্কতা বাড়ানো হবে।

ঘটনার প্রাথমিক তথ্য ও অভিযুক্তদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিম্নের টেবিলে দেওয়া হলো:

বিষয়বিবরণ
আহত ব্যক্তিকনস্টেবল ইজাজুল হক এজাজ
আহতের চিকিৎসাহালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স → ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ
হামলাকারীরুহুল আমিন খান (৫৫), লিয়ন খান (পুত্র)
ঘটনার স্থানপাগলপাড়া, হালুয়াঘাট পৌরসভা
সময়২৩ জানুয়ারি, রাত প্রায় ১১টা
পুলিশ কর্মকর্তা মন্তব্যঅতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান: “মামলা প্রক্রিয়াধীন, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়াআতঙ্ক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি

হালুয়াঘাট থানাসহ জেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ভবিষ্যতে চেকপোস্টে আরও বেশি পুলিশ জনবল মোতায়েন করা হবে এবং সিসিটিভি ও নজরদারি ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। স্থানীয় মানুষরা আশা করছেন, দ্রুত ন্যায়বিচার হবে এবং পুনরায় এমন নৃশংস ঘটনা ঘটবে না।