হালুয়াঘাটে খাদ্যবান্ধব সরকারি চাল জব্দ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের চরগোরকপুর এলাকায় একটি বাড়ি থেকে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে এসব চাল জব্দ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধুরাইল ইউনিয়নে কয়েকদিন আগে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় কম দামের সরকারি চাল বিতরণ করা হয়েছিল। এ সময় আশরাফ উদ্দিন নামের একজন ব্যক্তি উপকারভোগীদের কাছ থেকে এই চাল সংগ্রহ করে নিজের বাড়িতে মজুত করেছিলেন। বিষয়টি একটি গোপন সূত্র থেকে প্রশাসনের নজরে আসে।

উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আবু রায়হান সংবাদটি প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেন। পরে ইউএনও জান্নাত সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাছের খাবারের পাশ থেকে সরকারি ১৫ বস্তা চাল উদ্ধার করেন। প্রতি বস্তার ওজন ৫০ কেজি। অভিযানের সময় আশরাফ উদ্দিন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে সরকারি চাল কেনা ও মজুত রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ইউএনও জান্নাত বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সরকারি চাল কেনা ও মজুত রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।” তিনি আরও বলেন, “প্রশাসন নিয়মিতভাবে সরকারি ত্রাণ কার্যক্রমের উপর নজরদারি চালাচ্ছে এবং যে কোনো অনিয়ম দৃষ্টিগোচর হলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের সময় উদ্ধারকৃত চালের বিস্তারিত তথ্য নিম্নরূপ:

ক্রমউদ্ধারকৃত চালের পরিমাণপ্রতিটি বস্তার ওজনমোট ওজনঅবস্থান
১৫ বস্তা৫০ কেজি৭৫০ কেজিচরগোরকপুর বাড়ি

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এই চাল সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি, বিশেষ করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য। সরকারি ত্রাণ উপকরণ অনৈতিকভাবে বিক্রি বা মজুত রাখার ঘটনা সমাজে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনে। তাই প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে তারা প্রশংসা করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন আশা করছে, এই অভিযান অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে সরকারি ত্রাণের যথাযথ বিতরণ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, এ ধরনের অনিয়ম রোধে স্থানীয় ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।

এই ঘটনায় প্রশাসন ও স্থানীয় নেতাদের যৌথ উদ্যোগে জনগণকে সচেতন করতে এবং সরকারি ত্রাণ সঠিকভাবে বিতরণের জন্য নিয়মিত মনিটরিং চালানো হবে।