হাম টিকাদানে জরুরি পদক্ষেপ শুরু হবে আগামী শনিবার

দেশে হাম রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার আগামী রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকে একটি জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। সকাল ৯টায় একযোগে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, এটি ধাপে ধাপে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে এবং ঈদ-উল-আজহার পূর্বে ২১ মের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “প্রাথমিকভাবে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকায় কার্যক্রম শুরু হবে। রোগ পরিস্থিতি এবং মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির ভিত্তিতে ধীরে ধীরে পুরো দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করা।”

টিকা পাবে যেসব শিশু

এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। আগেই হাম টিকা নেওয়া শিশুরাও এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুরা ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পাবেন, যা রোগের জটিলতা কমাতে এবং দ্রুত সুস্থতায় সহায়তা করবে।

তবে, যেসব শিশু জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতায় ভুগছেন, তাদেরকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর টিকা গ্রহণ করতে হবে।

কোথায় এবং কিভাবে দেওয়া হবে টিকা

প্রাথমিকভাবে উচ্চ সংক্রমণ হার দেখা গেছে এমন ১৮ জেলা ও ৩০ উপজেলা টার্গেট করা হয়েছে। টিকাদান কেন্দ্র হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারি হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অস্থায়ী কেন্দ্রগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথম ধাপে টিকা দেওয়া হবে যে ৩০ উপজেলায়:

রাজশাহী: গোদাগাড়ী
ঢাকা: নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, সদর, শ্রীনগর
ঝালকাঠি: নলছিটি
ময়মনসিংহ: ত্রিশাল, সদর, ফুলপুর
চাঁদপুর: হাইমচর, সদর
বরিশাল: মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ
পাবনা: ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া, বেড়া
নওগাঁ: পোরশা
গাজীপুর: সদর
নেত্রকোনা: আটপাড়া
শরীয়তপুর: জাজিরা
বরগুনা: সদর
মাদারীপুর: সদর
কক্সবাজার: মহেশখালী, রামু
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট
নাটোর: সদর
যশোর: সদর

অভিভাবকদের জন্য নির্দেশনা

  • নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে শিশুকে টিকা দিতে হবে
  • শিশুর বয়স অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করতে হবে
  • টিকাদান কার্ড সঙ্গে রাখা আবশ্যক
  • টিকা নেওয়ার পর সামান্য জ্বর বা অস্বস্তি হলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই
  • জটিলতা দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি

হাম টিকার গুরুত্ব

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সময়মত টিকা না নিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মারাত্মক জটিলতার কারণ হতে পারে। শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে টিকাদান নিশ্চিত করা।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ

মন্ত্রী বলেন, “সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ব্যবহৃত টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হব।”

টিকাদান কার্যক্রমের মূল তথ্য (টেবিল)

বিষয়বিবরণ
কার্যক্রম শুরুর তারিখরবিবার, ৫ এপ্রিল
প্রাথমিক জেলা ও উপজেলা১৮ জেলা, ৩০ উপজেলা (উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ)
লক্ষ্য বয়স৬ মাস – ৫৯ মাস
টিকা গ্রহণকারীর শর্তআগেও টিকা নেওয়া শিশু, নতুন শিশুরা; অসুস্থ শিশু পরে টিকা
অন্যান্য সেবাহাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
কেন্দ্রউপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারি হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, অস্থায়ী কেন্দ্র
লক্ষ্য পূরণের সময়২১ মের মধ্যে (ঈদ-উল-আজহার পূর্বে)
জাতীয় গুরুত্বশিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ

এই উদ্যোগ দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং হাম প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারি ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা নিশ্চিত করলে কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।