ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে শিশু ভর্তির সংখ্যা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৭ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে পৃথক সংক্রামক রোগ চিকিৎসা ওয়ার্ডে মোট ৭৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নতুন রোগী ভর্তির ধারা পুরোপুরি থামেনি, যা পরিস্থিতিকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল আটটা থেকে শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে নতুন এই ২৭ জন শিশু ভর্তি করা হয়। একই সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে রোগী প্রবাহ অব্যাহত থাকায় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম কঠোরভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৩৭১ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৮৪ জন শিশু। এ পর্যন্ত মোট ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ জন শিশু সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে, যা চিকিৎসকদের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথমে বিচ্ছিন্নভাবে এক বা দুইজন শিশু ভর্তি হলেও মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৬৪ শয্যার একটি পৃথক সংক্রামক রোগ চিকিৎসা ওয়ার্ড চালু করে। সেখানে তিনটি পৃথক চিকিৎসক দল নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৯৭ জনের শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। বাকি নমুনাগুলোর ফলাফল পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং নতুন নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৭ জন শিশু ভর্তি হলেও কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মোট ভর্তি (১৭ মার্চ থেকে) | ৩৭১ জন শিশু |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি | ২৭ জন শিশু |
| বর্তমানে চিকিৎসাধীন | ৭৭ জন শিশু |
| সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে | ২৮৪ জন শিশু |
| মোট মৃত্যু | ১০ জন শিশু |
| গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা | ২২ জন শিশু |
| পরীক্ষার জন্য প্রেরিত নমুনা | ১৯৭টি |
| নিশ্চিত সংক্রমণ | ৭৪ জন |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা সতর্ক করেছেন যে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করেন এবং উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থা চলমান থাকলেও নতুন রোগী ভর্তির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
