ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় শিশুটি মারা যায়। একই সময়ে নতুন করে ২৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মাইনউদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ২৮ শিশুর মধ্যে ১৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৮০ শিশু। এছাড়া গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৭৬ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮৯ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং এ সময়ে মোট ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ফয়সল আহমেদ বলেন, “জনসংখ্যার তুলনায় ময়মনসিংহে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা অত্যধিক নয়। তবে আক্রান্ত শিশুর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে, যা বিশেষ সতর্কতার দাবি রাখে। অভিভাবকরা শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করুন।”
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সতর্ক করেছেন যে, শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া, জ্বর বা দুর্বলতার উপসর্গ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হামের সংক্রান্ত শিশুর ভর্তি, সুস্থ ও মৃত্যুর তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| সময়কাল | হাসপাতালে ভর্তি শিশু সংখ্যা | সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র প্রাপ্ত শিশু | মৃত্যু শিশুর সংখ্যা | বর্তমানে চিকিৎসাধীন শিশু |
|---|---|---|---|---|
| ১৭ মার্চ – ৬ এপ্রিল | ২৭৬ | ১৮৯ | ৭ | ৮০ |
| গত ২৪ ঘণ্টা | ২৮ | ১৯ | ১ | ৮০ |
চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, শিশুদের যেসব এলাকায় পরিষ্কার পানি, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতা কম, সেখানে হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দেয়। অভিভাবকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিশুদের পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রদান করা এবং শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়মিত করা।
ময়মনসিংহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় কমিউনিটি, বিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন, সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা থাকলে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
