হামজার পথ ধরেই এবার নারী ফুটবলে প্রবাসী ফুটবলার?

বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দল দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসী খেলোয়াড়দের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল ছোঁয়ার চেষ্টা করছে। জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীসহ কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলার পুরুষ দলের দাপট বাড়িয়ে দিয়েছেন। এবার সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলেও প্রবাসী বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়কে দেখা যেতে পারে।

২০ বছর বয়সী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী জন্মগ্রহণ করেছেন সুইডেনে। সম্প্রতি তিনি ঢাকায় এসেছেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের ট্রায়ালে অংশগ্রহণের জন্য। তার লক্ষ্য স্পষ্ট—জাতীয় দলের কোচ পিটার বাটলারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।

আনিকা মূলত মাঝমাঠে খেলেন, তবে উইং অবস্থানেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং নিজের খরচে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন তিনি। বাংলাদেশের পাসপোর্ট থাকায় আনিকা আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

জাতীয় দলের আগামী ক্যাম্প ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে, যা চলবে ১০ দিন। এই ক্যাম্পের মাধ্যমে আনিকা তার কৌশল, গতি ও খেলার বোধ প্রদর্শন করবেন। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আনিকার এই উদ্যোগ বাংলাদেশ নারী ফুটবলের মান বৃদ্ধিতে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।

প্রবাসী খেলোয়াড়দের সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

খেলোয়াড়ের নামবয়সজন্মস্থানজাতীয় দলঅবস্থানপ্রবাসী কি নাজাতীয় দলে অভিজ্ঞতা
জামাল ভূঁইয়া25ডেনমার্কপুরুষফরোয়ার্ডহ্যাঁবহু ম্যাচে খেলা
হামজা চৌধুরী23নেদারল্যান্ডপুরুষমিডফিল্ডহ্যাঁচলতি সিজনে নিয়মিত
আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী20সুইডেননারীমিডফিল্ড/উইংহ্যাঁট্রায়াল পর্যায়ে

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আশা করছে, আনিকার মত প্রবাসী খেলোয়াড়রা নারী ফুটবলে নতুন দিগন্ত খুলবে। পাশাপাশি স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি দেশের ফুটবলকে আরও শক্তিশালী করবে।

জাতীয় দলের কোচ পিটার বাটলার ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, “যদি আনিকা ট্রায়ালে তার প্রতিভা দেখাতে পারেন, তবে তিনি আমাদের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারেন। প্রবাসী খেলোয়াড়রা আমাদের দলের গতি ও মান বৃদ্ধিতে সহায়ক।”

এভাবে, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর আগমন বাংলাদেশ নারী ফুটবলের জন্য নতুন সম্ভাবনার সিঁড়ি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।