হাফিজ ইব্রাহিম । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

হাফিজ ইব্রাহিম একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তৎকালীন রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রূপালী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

 

জন্ম প্রারম্ভিক জীবন

হাফিজ ইব্রাহিম বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা ভোলাতে জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব ও বেড়ে ওঠা এই জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের মধ্যে, যা তার রাজনৈতিক জীবন গঠনে ভূমিকা রেখেছে। যদিও তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা ও পারিবারিক পটভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো অপ্রকাশিত, তবে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তার পরিচিতি দীর্ঘদিনের।

 

রাজনৈতিক জীবন সংসদ সদস্য হিসেবে ভূমিকা

হাফিজ ইব্রাহিম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন এবং দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে ভোলা-আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি তার সংসদীয় এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনসেবা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি রূপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, যা ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে তার প্রভাবকে প্রতিফলিত করে।

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি): একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল। দলটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বর, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে।
এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের রাজনীতিতে একটি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ধারার বিকাশ ঘটানো, যা রাজনৈতিকভাবে জনগণের মাঝে ব্যাপক সমর্থন পায়।

 

বিএনপির প্রতিষ্ঠা সংগঠনিক কাঠামো

১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠিত হয়, যার সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার

পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জাগদলকে বিলুপ্ত করে গঠন করা হয় ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ (বিএনপি)
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি সেই দলের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, এবং অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী দলের প্রথম মহাসচিব হন।

প্রথম আহ্বায়ক কমিটিতে ১৮ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়, যা পরে ৭৬ জন সদস্যবিশিষ্ট এক পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটিতে সম্প্রসারিত হয়।

বিএনপির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল নতুন তরুণ মুখের অন্তর্ভুক্তি—প্রায় ৪৫ শতাংশ সদস্য ছিলেন নতুন, যারা আগের কোনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

হাফিজ ইব্রাহিম শুধু একজন রাজনীতিকই নন—তিনি একজন সংগঠক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অভিজ্ঞ পেশাজীবীও। ভোলা অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি ছিলেন এক গুরুত্বপূর্ণ নাম, যার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা তাকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করে।

তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থায় অংশগ্রহণ দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোয় একটি নির্দিষ্ট সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

Leave a Comment