হাফিজ আহমেদ মজুমদার, যিনি হাফিজ মজুমদার নামেই সমধিক পরিচিত, একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবী ও রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য এবং একজন নিরব, অথচ কর্মঠ সংস্কারক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা এই জননেতা সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে রেখেছেন অনন্য অবদান।
Table of Contents
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
হাফিজ আহমেদ মজুমদার ১৯৩৩ সালের ২৯ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন তৎকালীন আসাম প্রদেশের করিমগঞ্জে, যা বর্তমানে বাংলাদেশের সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।
প্রাথমিক শিক্ষার শুরু ভারতের চন্ডিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি যশোর জেলা স্কুল থেকে ১৯৫১ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পাস করেন।
উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন ১৯৫৩ সালে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ থেকে। পরে বরিশালের বিএম কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষা উন্নয়নে অবদান
সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য ১৯৮৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন হাফিজ মজুমদার শিক্ষা ট্রাস্ট।
এই ট্রাস্টের অধীনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ২০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- স্কলার্স হোম (Scholars Home)
- হাফসা মজুমদার মহিলা কলেজ
- সাজ্জাদ মজুমদার বিদ্যানিকেতন
- হাফিজ মজুমদার বিদ্যানিকেতন
এসব প্রতিষ্ঠান শুধু সিলেট নয়, গোটা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সমাজসেবা ও পেশাগত দায়িত্ব
শুধু শিক্ষা নয়, অর্থনীতিতেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক পূবালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান, যেখানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন।
সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০১১ সালে আহসানিয়া মিশনের পক্ষ থেকে ‘খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ স্বর্ণপদক‘ সহ বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন।
রাজনৈতিক জীবন
হাফিজ মজুমদারের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় পারিবারিক প্রভাব থেকে। তার চাচা, সাবেক সংসদ সদস্য ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদার, ছিলেন একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার পরিবর্তে ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে হাফিজ মজুমদার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
পরে জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে সিলেট-৫ আসন থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
- ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।
- ২০০৮ সালে পুনরায় নির্বাচনে জয়লাভ করেন এবং দ্বিতীয় দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
- ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি।
- ২০১৮ সালে তিনি আবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সিলেট-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিপুল ভোটে জয়ী হন।

হাফিজ আহমেদ মজুমদার একজন নিরব, কিন্তু প্রভাবশালী সমাজনেতা যিনি রাজনীতি, শিক্ষা এবং সমাজসেবার মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁর জীবন ব্যয় করেছেন। সিলেট অঞ্চলের শিক্ষাক্ষেত্রে তার অবদান দীর্ঘদিন ধরে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। একইসঙ্গে, তাঁর সুশৃঙ্খল ও আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক জীবন আগামীর প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।