শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা হিসেবে পরিচিত এবং বর্তমানে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে এক অনভিপ্রেত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার শিকার হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেওয়া এই তরুণ নেতার ওপর নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালীন একাধিকবার ময়লা পানি নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই ঘটনাটি কেবল একজন প্রার্থীর ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং তা সুস্থ ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকগণ।
Table of Contents
ঘটনার বিবরণ ও হাদির প্রতিক্রিয়া
গত শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে মতিঝিলের এজিবি কলোনি এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ ও মতবিনিময়ে অংশ নিতে গিয়েছিলেন শরীফ ওসমান হাদি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি যখন ভোটারদের সাথে কথা বলছিলেন এবং নিজের রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরছিলেন, তখনই ওপরের কোনো একটি ভবন থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি ছুড়ে মারা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ময়লা পানিতে ভেজা অবস্থায় শরীফ ওসমান হাদি অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “ভাই, ময়লা পানি যে মারছেন, আরও মারতে পারেন। সমস্যা নেই, মারেন। তিনবার মেরেছে ময়লা পানি।” তাঁর এই শান্ত ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। অনেকে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ঢাকা-৮ আসনের গুরুত্ব ও প্রার্থীর অবস্থান
শরীফ ওসমান হাদি যে আসন থেকে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন, সেই ঢাকা-৮ আসনটি মূলত রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শাহবাগ, মতিঝিল, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনটি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এই আসনে বিজয়ী হওয়া যেকোনো দলের জন্যই অত্যন্ত সম্মানজনক ও গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রের প্রার্থীতা ও নির্বাচনী এলাকা সংক্রান্ত তথ্যাদি একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| প্রার্থীর নাম | শরীফ ওসমান হাদি। |
| দলীয় পরিচয় | মুখপাত্র, ইনকিলাব মঞ্চ (স্বতন্ত্র প্রার্থী)। |
| নির্বাচনী এলাকা | ঢাকা-৮ (জাতীয় সংসদ)। |
| অন্তর্ভুক্ত এলাকাসমূহ | শাহবাগ, মতিঝিল, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর। |
| ঘটনার স্থান | এজিবি কলোনি, মতিঝিল। |
| ঘটনার ধরন | নির্বাচনী প্রচারণায় বারবার ময়লা পানি নিক্ষেপ। |
| সামাজিক প্রতিক্রিয়া | নিন্দার ঝড় ও সুস্থ রাজনীতি নিশ্চিতের দাবি। |
ইনকিলাব মঞ্চ ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ইনকিলাব মঞ্চ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও জাতীয় ইস্যুতে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। শরীফ ওসমান হাদি এই মঞ্চের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। আগামী নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণাটি অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের নজর কেড়েছে।
মতিঝিলের এই ঘটনাটি নির্দেশ করে যে, রাজপথের রাজনীতি থেকে শুরু করে নির্বাচনী মাঠ পর্যন্ত একটি মহল হয়তো এই নতুন ধারার নেতৃত্বের উত্থানে আতঙ্কিত। ময়লা পানি ছুড়ে মারার মতো নিম্নরুচির কর্মকাণ্ড মূলত কোনো প্রার্থীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটি পুরোনো অপকৌশল। তবে হাদির ভক্ত ও সমর্থকদের মতে, এ ধরনের হামলা তাঁকে জনগণের আরও কাছে নিয়ে যাবে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রতি সহমর্মিতা বাড়বে।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও নিরাপত্তার সংকট
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ অপরিহার্য। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন একজন প্রার্থীর ওপর এ ধরনের বারবার হামলা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথে বড় অন্তরায়। এজিবি কলোনির মতো একটি জনবহুল এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কলোনিতে দিনে-দুপুরে এ ধরনের ঘটনা ঘটা স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও প্রশ্ন তোলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতিতে মতের ভিন্নতা থাকবেই, কিন্তু তা প্রকাশ করার মাধ্যম হওয়া উচিত আলোচনা বা ব্যালট, নোংরা পানি বা ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থকরা এই ঘটনার জন্য স্থানীয় বিরোধী কোনো গোষ্ঠীকে দায়ী করছেন এবং নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পরিশেষে বলা যায়, শরীফ ওসমান হাদির ওপর এই ময়লা পানি নিক্ষেপের ঘটনাটি কেবল একজন তরুণ প্রার্থীর অসম্মান নয়, বরং এটি আমাদের রাজনৈতিক সহনশীলতার অভাবকে নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ঢাকা-৮ আসনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যদি নির্বাচনের আগেই প্রার্থীদের এমন বৈরী পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, তবে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে সংশয় দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। এই ঘটনার পর এলাকার শান্তিকামী মানুষ আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করবে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সব প্রার্থীর সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
