হাদিকে হামলাকারী ফয়সালের বাবা-মা গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় র‌্যাব-২ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১১ রাউন্ড গুলি, দুটি পূর্ণ ম্যাগাজিন এবং একটি চাকু। এই অস্ত্র ও সরঞ্জাম ফয়সাল করিম মাসুদের বোনের বাসার পার্শ্ববর্তী এলাকায় পাওয়া যায় এবং পরে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়। একই অভিযানে ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আর ফয়সালের মাকে রাতের আলোচনার জন্য র‌্যাব কার্যালয়ে আনা হয়েছে।

র‌্যাব-২-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল ইসলাম জানিয়েছেন, পশ্চিম আগারগাঁওয়ের পানির ট্যাংকি সংলগ্ন কর্নেল গলি এলাকায় ফয়সালের বড় বোন জিয়াসমিনের বাসা রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১২ ডিসেম্বর সকালে ফয়সাল ও তার সহযোগী মোটরসাইকেলে ওই বাসা থেকে বের হন। একই দিন বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে তারা মা ও ভাগিনাসহ দুটি ভবনের মাঝের ফাঁকা জায়গা থেকে কিছু বের করতে দেখা যায়। পরে তারা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এলাকাটি ত্যাগ করেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে দুটি পূর্ণ ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি এবং চাকু উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও ফয়সালের বোনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি ট্যাব, একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, একটি পুরাতন মোবাইল, দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র, পাঁচটি কোম্পানির চেক, ১৫টি ব্যাংকের চেক বই, ছয়টি পাসপোর্ট এবং ৩৮টি ব্যাংক চেকের পাতা।

ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবিরকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় শ্যালকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় কাছের একটি পুকুর থেকে তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, ফয়সালের মাকে কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

হাদির ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রধান আসামি ফয়সালসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে। সূত্র মতে, হামলাকারীরা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, এই উদ্ধার অভিযান এবং গ্রেপ্তার কার্যক্রম হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্তকে আরও ত্বরান্বিত করবে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।