ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত এই নেতা বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা যেমন উদ্বেগের বিষয়, তেমনি উদ্বেগ বাড়িয়েছে হামলার পেছনে থাকা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয় উপস্থিতির অভিযোগ।
ডাকসু সদস্য ও ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী ফাতিমা তাসনিম জুমা দাবি করেছেন, এই হত্যাচেষ্টা ছিল সুপরিকল্পিত এবং বহুস্তরবিশিষ্ট। তার মতে, একজন ব্যক্তি শুধু ট্রিগার টিপেছে, কিন্তু পুরো অপারেশনটি পরিচালনা করেছে একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় এবং ভয়াবহভাবে প্রভাবশালী।
জুমার অভিযোগের অন্যতম গুরুতর দিক হলো—হামলাকারীদের সহযোগীরা হাসপাতালে পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। তার মতে, এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে অপরাধচক্রটি কতটা সাহসী ও সংগঠিত। একজন আহত নেতাকে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায়ও নিরাপত্তা দিতে না পারা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার জন্য একটি বড় ব্যর্থতা।
হামলার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার না করতে পারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জুমা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় ও তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আগে থেকেই ছিল। তবুও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি—এটি সাধারণ মানুষ মেনে নিতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, আসামি পালিয়ে গেছে—এই বক্তব্য একটি পরিকল্পিত narrative হতে পারে। তার ধারণা, হয়তো দায়মুক্তি নেওয়ার জন্য অথবা আসামিকে পালাতে সহায়তা করার জন্যই এই ধরনের বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে করে প্রকৃত অপরাধীদের ধরার প্রক্রিয়া আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা ওসমান হাদিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, পুরো অপরাধচক্রকে জীবিত অবস্থায় আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা কেবল একটি ব্যক্তিগত বা দলীয় বিষয় নয়। এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহিংসতার প্রবণতা এবং ভিন্নমতের কণ্ঠরোধের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। বিশেষ করে একজন সম্ভাব্য সংসদ প্রার্থীর ওপর এমন হামলা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অশনিসংকেত।
