হাতেম আলী তালুকদার (জন্ম: ১১ জানুয়ারি ১৯২৭ – মৃত্যু: ২৪ অক্টোবর ১৯৯৭), যিনি হাতেম তালুকদার নামেও পরিচিত, ছিলেন একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ নেতা এবং টাঙ্গাইল–২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।
তিনি ছিলেন সেই প্রজন্মের নেতা, যারা বাঙালি জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি আন্দোলন—ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক ভিত্তি নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
Table of Contents
রাজনৈতিক ও আন্দোলনমুখর কর্মজীবন
হাতেম আলী তালুকদার ছিলেন এক সংগ্রামী নেতা, যিনি রাজনীতি করেছেন আদর্শ ও জনগণের অধিকারের জন্য।
তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন, যেখানে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ছিল সাহসী ও অগ্রণী।
▸ ছয় দফা আন্দোলন ও পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি (১৯৬৬):
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবির আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। এই আন্দোলন পূর্ব বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে এক মোড় ঘোরানো অধ্যায় ছিল।
▸ মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা (১৯৭১):
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন একজন সক্রিয় সংগঠক। তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, যুব সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীদের সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে অনেক এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মনোবল দৃঢ় হয়।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে টাঙ্গাইল–২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই সংসদ ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গণতান্ত্রিক সংসদ, যেখানে জাতীয় পুনর্গঠন, সংবিধান প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা নির্ধারণে তিনি অবদান রাখেন।
মৃত্যুবরণ ও অন্তিম শ্রদ্ধা
হাতেম আলী তালুকদার ১৯৯৭ সালের ২৪ অক্টোবর, ঢাকার রাশমনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোকগমন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে টাঙ্গাইলসহ সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে তাঁকে তাঁর নিজ এলাকা গোপালপুরের নিজ বাসভবনের প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।

হাতেম আলী তালুকদার ছিলেন এক সত্ ও সংগ্রামী রাজনৈতিক কর্মী, যিনি আজীবন গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং বাঙালির স্বপ্নের জন্য লড়াই করে গেছেন। তিনি ছিলেন সেই সব নেতার একজন, যাঁরা নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির কল্যাণকে মুখ্য করে তুলেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত থাকবে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আদর্শ, সাহস ও নেতৃত্বের পাঠ হয়ে থাকবে।