সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারকাজ থেকে অনুপস্থিত থাকা এই বিচারপতি সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রটি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে। কানাডা থেকে নিজে থেকে পাঠানো এই পদত্যাগপত্র হাইকোর্টে নতুন অস্থিরতার সূচনা করেছে।
জানা গেছে, বিচারপতি মামনুন রহমান গত এক বছরেরও বেশি সময় বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল তার পদত্যাগ বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে প্রতিবেদন আকারে জানিয়েছে। এর আগে, হাইকোর্ট বিভাগের তিনজন বিচারপতির বিষয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল অপসারণের সুপারিশ করেছিল, যা কার্যকর করা হয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের ১২ জন বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে বর্তমানে ৯ জন আর দায়িত্বে নেই। এদের মধ্যে কেউ কেউ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্তের পর বাধ্যতামূলক অবসরে গেছেন, কেউ কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন, এবং অনেকে বিভিন্ন কারণে দীর্ঘমেয়াদী ছুটিতে রয়েছেন। বাকি তিনজন বিচারপতি যদিও পদে রয়েছেন, তবে বেঞ্চে বিচারকাজে নিয়োজিত নন।
চলতি মাসে বিচারপতি এম আর হাসানকেও অভিযোগের ভিত্তিতে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে হাইকোর্টে মোট ১৩ জন বিচারপতি ছুটিতে আছেন। এছাড়া আরও দুইজন বিচারপতি স্বেচ্ছায় কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন, যার একজন হলেন পদত্যাগ করা বিচারপতি মামনুন রহমান।
নিচের টেবিলে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের বর্তমান অবস্থা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিভাগ | মোট বিচারপতি | দায়িত্বে আছেন | ছুটিতে/অবসরে আছেন | স্বেচ্ছায় অনুপস্থিত | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|
| হাইকোর্ট | ১২ | ৩ | ৯ | ২ | পদত্যাগ, ছুটি ও অবসরসহ পরিস্থিতি জটিল |
| বর্তমানে ছুটিতে | – | – | ১৩ | – | অভিযোগ ভিত্তিক ছুটি ও অন্যান্য ছুটি যুক্ত |
| বাকি কার্যরত | – | ৩ | – | – | বেঞ্চে কাজ করছেন না |
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই অস্থিরতা বিচারিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পদত্যাগ, দীর্ঘমেয়াদী ছুটি ও স্বেচ্ছায় অনুপস্থিতির এই ধারা দেশের উচ্চ আদালতের কার্যকারিতায় স্থিতিশীলতার ঘাটতি প্রকাশ করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক পদত্যাগ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে তদন্ত ও পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এবং রাষ্ট্রপতির উদ্যোগের মাধ্যমে আগামীতে বিচারকাজের স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা এবং স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
