হরমুজ প্রণালী বন্ধে তেলের দাম বৃদ্ধি

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক হুমকির পর হরমুজ প্রণালী বন্ধের আতঙ্ক বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ৯৫টিরও বেশি দেশে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষ, শিল্পখাত ও পরিবহন খাতের ওপর তীব্র প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে অটোমোবাইল চালক এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এই পরিস্থিতিতে দিশাহারা হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে দাম বৃদ্ধির চিত্র

আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) জানিয়েছে, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন সাধারণ পেট্রলের গড় দাম ২.৯৪ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৫৮ ডলারে, যা প্রায় ২০ শতাংশের বৃদ্ধি নির্দেশ করে। রাজ্যভিত্তিক দাম ব্যবধান থাকায় ক্যালিফোর্নিয়ায় দাম ৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা গত দুই বছরের সর্বোচ্চ।

এশিয়া ও আফ্রিকায় প্রভাব

গ্লোবাল পেট্রল প্রাইসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হামলার প্রভাব কমপক্ষে ৮৫টি দেশে তেলের দাম বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। কম্বোডিয়ায় ৯৫-অকটেন পেট্রলের দাম ৬৮% বৃদ্ধি পেয়েছে, ভিয়েতনামে ৫০%, নাইজেরিয়ায় ৩৫% এবং লাওসে ৩৩% বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

দেশদাম বৃদ্ধি (%)পূর্বের দাম (USD প্রতি লিটার)বর্তমান দাম (USD প্রতি লিটার)
কম্বোডিয়া৬৮১.১১১.৩২
ভিয়েতনাম৫০০.৯৮১.৪৭
নাইজেরিয়া৩৫১.২০১.৬২
লাওস৩৩১.০০১.৩৩

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহ

দাম বৃদ্ধির ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, নাইজেরিয়া, লাওস, কানাডা, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশ সরাসরি শীর্ষ তালিকায় না থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের আর্থিক সুরক্ষা ভাণ্ডার সীমিত এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত কম হওয়ায় পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং।

বাংলাদেশের প্রস্তুতি

বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য সরকারি দপ্তর সপ্তাহে চার দিন খোলা রাখছে এবং ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাসা থেকে অফিস করার ব্যবস্থা করছে। এই ধরনের পদক্ষেপ সংকটকালীন সময়ে জ্বালানি ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসে আরও অনেক দেশে দাম বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোক্তা ব্যয়, পরিবহন খাত এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ওপর। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দ্রুত ঘনীভূত হলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।