হরমুজ প্রণালীতে ভারতের জাহাজ চলাচল অনুমোদন

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রেখেছে। তেহরান সরকার এই নীতি কার্যকর করার ফলে প্রণালীর মাধ্যমে সাধারণ বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট দেশ সীমিত পরিসরে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথ ব্যবহার করতে পারছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, তুরস্ক ও ভারতের মতো দেশগুলোকে সীমিত সংখ্যক জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই অনুমোদন বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে, যা ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

ইরানের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তেল ও গ্যাস সরবরাহ কমার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারেরও বেশি ছুঁয়ে যেতে পারে। যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করায় এই আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।

সীমিত সাফল্যের খবরও এসেছে। সম্প্রতি পাকিস্তান তাদের ‘করাচি’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। এটি যুদ্ধের কারণে বাধাগ্রস্ত নৌ চলাচলের মধ্যে খুব কম সংখ্যক সফল পারাপারের একটি।

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, ইরাকের তেলমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, বাগদাদ ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। এই সমঝোতার মাধ্যমে ইরাকের তেলবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে। তবে এ পর্যন্ত কোনো ইরাকি জাহাজের সফল পারাপারের খবর পাওয়া যায়নি।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক হরমুজ প্রণালী সম্পর্কিত তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:

দেশজাহাজ পারাপারের অনুমতিমন্তব্য
ইরানসীমিতআইআরজিসি অনুমোদন দেয়
ভারতসীমিতনির্বাচিত জাহাজ পারাপার সম্ভব
তুরস্কসীমিতকিছু নির্দিষ্ট জাহাজ অনুমোদিত
পাকিস্তান১টি সফল‘করাচি’ ট্যাঙ্কার পারাপার সম্পন্ন
ইরাকঅপেক্ষমাণসমঝোতা হয়েছে, জাহাজ পার হয়নি

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমিত পারাপার কিছুটা সহায়তা দিতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে প্রণালীর বন্ধ থাকা আন্তর্জাতিক তেলের বাজার ও বাণিজ্যকে অস্থিতিশীল রাখবে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার ফলে তেলের সরবরাহ চেইন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অচল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এটি সতর্কবার্তা, কারণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে।