হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা আটক, কর্মীদের বিক্ষোভ

হবিগঞ্জ জেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুলিশ তাকে আটক করলে এর প্রতিবাদে সংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে অবস্থান গ্রহণ করেন। রাত সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচি গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, যার ফলে পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আন্দোলনকারীরা মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় শায়েস্তাগঞ্জ থানায় মাহদী হাসানের একটি বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দেওয়া এবং এসআই সন্তোষকে পুড়িয়ে মারার বিষয়ে চরম উসকানিমূলক কথা বলছেন। যদিও শনিবার বিকেলে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় মাহদী দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের এক সহযোদ্ধাকে অন্যায়ভাবে আটকের ঘটনায় প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আবেগতাড়িতভাবে ভুল শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন। তবে এই স্পর্শকাতর বক্তব্যের আইনগত প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ তাকে আটক করে।

ঘটনাপ্রবাহ ও বর্তমান পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ

ঘটনার পর্যায়সময়কালপ্রধান চিত্র
আটকের সময়শনিবার সন্ধ্যা ৭:০০ টাপুলিশ মাহদী হাসানকে হেফাজতে নেয়।
বিক্ষোভের সূচনাশনিবার রাত ৭:৩০ টানেতা-কর্মীরা থানার সামনে অবস্থান শুরু করেন।
বক্তব্য প্রদানশনিবার রাত ১০:৩০ টাএস এম রাসেল ও ফয়সল আমিনের প্রতিবাদী বক্তব্য।
আন্দোলনের স্থিতিশনিবার দিবাগত মধ্যরাতমাহদীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা।
আইনি অবস্থাতদন্তাধীনসুনির্দিষ্ট মামলার বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য মেলেনি।

থানার সামনে অবস্থানরত ছাত্রনেতারা অভিযোগ করেন যে, একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে জুলাই আন্দোলনের অগ্রসৈনিককে আটক করা প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ। বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লব না হলে বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের কাঠামোই থাকত না, অথচ এখন সেই আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাহদী হাসান বৃন্দাবন সরকারি কলেজের একজন নিয়মিত ছাত্র এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ হওয়ায় তার আটকের খবরটি দ্রুত সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট মামলার বিবরণ দেওয়া হয়নি। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন জানিয়েছেন, আটকের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে পরে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে। তবে আন্দোলনকারীদের অনমনীয় অবস্থানের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এই ঘটনার ফলে হবিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।