হবিগঞ্জে এনসিপিতে ১৩ নেতার পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর হবিগঞ্জ জেলা শাখায় একযোগে ১৩ নেতার পদত্যাগে দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ফ্যাসিবাদী নেতাদের পুনর্বাসন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের বঞ্চনা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দুর্নীতি ও প্রার্থী মনোনয়ন ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষের কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) গভীর রাত ১২টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে পদত্যাগকারীরা একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা অভিযোগ করেন, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের সময় দলীয় অনুগতদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং জুলাই আন্দোলনের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা বাদ পড়েছেন। তারা বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি মধ্যপন্থার রাজনীতির লক্ষ্য থেকে সরে এসে দুই মাসের মধ্যে দুটি জোটে যুক্ত হওয়ায় দলের নীতি ও আদর্শ লঙ্ঘিত হয়েছে। এছাড়া উপদেষ্টা ও বিভিন্ন স্তরের নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন পদত্যাগকারীরা।

নেতারা প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, মনোনীত প্রার্থীদের জন্য জুলাইযোদ্ধারা কার্যক্রমে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না, যা নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। জেলা কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রমও তারা ‘চরম ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

পদত্যাগকারীদের নাম ও পদ নিম্নরূপ:

নামপদ
পলাশ মাহমুদসিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব
মো. নূরুল হক টিপুযুগ্ম আহ্বায়ক
অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওয়াহিদ মনিরসদস্য
সিরাজুল হক সজিবযুগ্ম সদস্যসচিব
শেখ রুবেল আহমেদসদস্য
সালমা হাসানসদস্য
সঞ্জয় দাশসদস্য
মো. হারুন মিয়াসদস্য
মো. কামাল উদ্দিন আহমেদসদস্য
অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিনসদস্য
এএইচএম শফিউল আলম খানসদস্য
মো. জাহিদ মিয়াসদস্য
সোফায়েল আহমেদসদস্য

পলাশ মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা আমাদের পদত্যাগপত্র জেলা কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠিয়েছি। এটি ব্যক্তিগত হতাশা ও নীতি-নৈতিকতার কারণে নেওয়া সিদ্ধান্ত। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনীতি কার্যকরভাবে মধ্যপন্থার উপর ভিত্তি করে নেই। তবে যদি এনসিপি বা অন্য কোনো নতুন দল মধ্যপন্থার আদর্শে গড়ে ওঠে এবং একাত্তর ও চব্বিশ-উভয়কে ধারণ করতে পারে, আমরা যোগদানের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারি। অন্যথায় একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে থাকব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হবিগঞ্জ জেলা শাখায় এই পদত্যাগ শুধু স্থানীয় সংকট নয়, বরং কেন্দ্রীয় কমিটির নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতি নেতাদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রতিফলন। তারা সতর্ক করেছেন, দলীয় অস্থিরতা দ্রুত সমাধান না হলে জাতীয় পর্যায়ে এনসিপির অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে।