ঢাকাই চলচ্চিত্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ফোনকলের মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কিছু পোস্ট না করার জন্য তাঁকে এই চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় অভিনয় অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিনেত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও হুমকির ধরন
জানা গেছে, গত রবিবার রাতে একটি বিদেশি নম্বর থেকে পরীমনির ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল আসে। ফোনের ওপ্রান্ত থেকে জনৈক ব্যক্তি পরীমনিকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়ে বলা হয়, বর্তমান নির্বাচন বা ভোট সংক্রান্ত কোনো বিষয় যেন তিনি তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার না করেন।
পরীমনি এই পুরো কথোপকথনটির ভিডিও ধারণ করেন এবং পরবর্তীতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তা প্রকাশ করেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কলটি যে নম্বর থেকে এসেছে তার কান্ট্রি কোড বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় সেটি কিউবা থেকে করা হয়েছে। তবে এটি প্রকৃতপক্ষে কিউবা থেকে করা নাকি ইন্টারনেট ভিত্তিক কোনো অ্যাপ ব্যবহার করে নম্বর গোপন রাখা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার বিষয়।
একনজরে ঘটনার বিবরণ:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ভুক্তভোগী | শামসুন্নাহার স্মৃতি (পরীমনি) |
| হুমকির মাধ্যম | আন্তর্জাতিক ফোনকল (কিউবার কান্ট্রি কোড) |
| মূল দাবি | নির্বাচন বা ভোট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট বন্ধ করা |
| হুমকির ধরন | অকথ্য গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি |
| গৃহীত পদক্ষেপ | ভিডিও প্রকাশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ |
পরীমনির প্রতিক্রিয়া ও আইনি পদক্ষেপ
ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত হলেও পরীমনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করে ক্যাপশনে প্রশ্ন তুলেছেন, “ভোট নিয়ে কিছু শেয়ার করা যাবে না! এরা কারা?” তিনি মনে করেন, একজন নাগরিক হিসেবে নিজের মতপ্রকাশের অধিকার তাঁর রয়েছে। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, সিআইডি পুলিশ এবং বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল পেজগুলোকে মেনশন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
পরীমনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “হুট করে একটি বিদেশি নম্বর থেকে কল আসে। রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে গালিগালাজ শুরু হয়। আমাকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আমি যেন ভোট নিয়ে ফেসবুকে কিছু না লিখি। কিছু লিখলে বা শেয়ার করলে আমাকে মেরে ফেলা হবে।”
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও বর্তমান পরিস্থিতি
নির্বাচনী মৌসুমে একজন জননন্দিত সেলিব্রিটিকে এভাবে রাজনৈতিক ইস্যুতে চুপ থাকার জন্য হুমকি দেওয়াকে গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (VPN) বা ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে বিদেশি নম্বর ক্লোন করে এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
ইতোমধ্যেই বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এসেছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরটি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পরীমনির বাসার আশেপাশে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে সাইবার ক্রাইম ইউনিট কাজ শুরু করেছে। ভক্তরা দাবি জানিয়েছেন, অনতিবিলম্বে এই হুমকির নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক।
