বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা এবং প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিন শিক্ষার্থী—রিয়াদুল হাওলাদার, আলিফ আহম্মেদ আশিক এবং সায়েম শিকদারের রিমান্ড ও জামিন উভয় আবেদনই নামঞ্জুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন।
Table of Contents
মামলার পটভূমি ও ঘটনাপ্রবাহ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে আব্দুর রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরও ১০ থেকে ২২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ তলার ৪১২ নম্বর কক্ষে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিদের সঙ্গে বাদী নির্জন ও তার বন্ধুদের পূর্বশত্রুতা ছিল। ঘটনার দিন আসামিরা নির্জনকে সমাবর্তনে অংশগ্রহণের বিষয়ে কথা বলতে ডাকেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আনিসুর রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করার একপর্যায়ে রাজ্জাকের নির্দেশে রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে নির্জনকে আঘাত করেন। এতে তিনি পিঠে ও বুকে গুরুতর আঘাত পান। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয় যে, রাজ্জাক সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে নির্জনকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করলে তার নাকের উপরিভাগ কেটে রক্তাক্ত জখম হয়।
আদালতের কার্যক্রম ও আইনি বিতর্ক
প্রসিকিউশন বিভাগের তথ্যমতে, পুলিশ গত বৃহস্পতিবার রাতে আসামিদের গ্রেফতার করে এবং পরদিন তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই আরমান আলী আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
শুনানিকালে রিয়াদের পক্ষে আইনজীবী জাকির হোসাইন এবং অন্য তিন আসামির পক্ষে আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন জামিন প্রার্থনা করেন। সাখাওয়াত হোসেন যুক্তি দেখান যে, গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীরা চাকরি প্রত্যাশী এবং তাদের ক্যারিয়ারের কথা বিবেচনা করে জামিন দেওয়া উচিত। তবে আদালত রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদের ক্ষেত্রে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং বাকিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিদের সংক্ষিপ্ত তথ্য ও বর্তমান আইনি অবস্থা
| আসামির নাম | শিক্ষা প্রতিষ্ঠান | মামলার ভূমিকা | আদালতের বর্তমান আদেশ |
| আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদ | প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি | প্রধান অভিযুক্ত (নির্দেশদাতা) | ২ দিনের পুলিশ রিমান্ড |
| রিয়াদুল হাওলাদার | প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি | নামীয় আসামি (আক্রমণকারী) | রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর (কারাগার) |
| সায়েম শিকদার | প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি | নামীয় আসামি (আক্রমণকারী) | রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর (কারাগার) |
| আলিফ আহম্মেদ আশিক | প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি | নামীয় আসামি | রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর (কারাগার) |
রিয়াদের পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড
উল্লেখ্য যে, এটিই আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদের বিরুদ্ধে প্রথম আইনি পদক্ষেপ নয়। এর আগেও গত বছরের ২৬ জুলাই গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। ওই চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার কিছুদিন পরই তিনি এই নতুন হত্যাচেষ্টা মামলায় পুনরায় আইনের জালে জড়িয়ে পড়লেন।
বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে থাকা রাজ্জাককে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ এবং ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হবে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।
