হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪৬ জনের মৃত্যু

হংকংয়ের একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৬ জনে পৌঁছেছে। রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, দুর্যোগ ভিকটিম আইডেন্টিফিকেশন ইউনিট ওয়াং ফুক কোর্ট এবং আরও তিনটি বহুতল ভবনে অনুসন্ধান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই অগ্নিকাণ্ড ১৯৮০ সালের পর থেকে হংকংয়ে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ আবাসিক অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তা সাং শুক-ইয়িন জানান, “বর্তমানে নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা ১৪৬, তবে আরও হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।” চীনের বিভিন্ন শহর থেকে মানুষ শহরের কমপ্লেক্সে এসে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এর ফলে শহরের আবাসিক এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

হংকং প্রশাসন অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ণয়ের জন্য একটি আন্তঃবিভাগীয় তদন্ত টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। হংকংয়ের দুর্নীতি দমন সংস্থা ইতিমধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে তিনজনকে হত্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সাফ ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভবনের অগ্নি নিরোধক প্রস্তুতি যথাযথভাবে পালন করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক নাগরিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হতাহতের তথ্যও পাওয়া গেছে। ইন্দোনেশিয়ান কনস্যুলেট জানিয়েছে, কমপক্ষে সাতজন ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক এই অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন। এছাড়া ফিলিপাইনের একজন নাগরিকও নিহত হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন এবং সাহায্য প্রদানের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

হংকংয়ের ভবন বিভাগ শহরের ৩০টি বেসরকারি ভবন প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ভবনগুলির নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ভবন মালিকদের সতর্ক করেছে যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অমান্য করা হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব ও তাজা তথ্য সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেওয়া হলো—

বিষয়তথ্য
মৃতের সংখ্যা১৪৬+
স্থানহংকং, আবাসিক ভবন
অনুসন্ধান স্থানওয়াং ফুক কোর্ট ও আরও তিনটি বহুতল ভবন
আন্তর্জাতিক হতাহতের সংখ্যাইন্দোনেশিয়া: ৭, ফিলিপাইন: ১
তদন্তআন্তঃবিভাগীয় টাস্ক ফোর্স, ১১ জন গ্রেপ্তার (৩ জন হত্যা অভিযোগ)
প্রশাসনিক পদক্ষেপ৩০টি বেসরকারি ভবন প্রকল্প সাময়িক বন্ধ

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হংকংয়ের এই অগ্নিকাণ্ড ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অগ্নি নিরোধক নিয়মকানুনের প্রতি নতুন করে নজর দিতে বাধ্য করবে। পাশাপাশি ভবন মালিক ও নির্মাণ সংস্থাগুলিকে ভবিষ্যতে তীব্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।