স্বামীর চেয়ে সাড়ে আট গুণ ধনী তানিয়া রব, আয় তিনগুণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র ও হলফনামা অনুযায়ী, তানিয়া রবের সম্পদ এবং আয় তার স্বামী আ স ম আবদুর রবের তুলনায় যথাক্রমে প্রায় সাড়ে আট গুণ এবং তিন গুণ বেশি।

লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি আসনে এবার মোট ২৫ জন প্রার্থী হয়েছেন। এদের মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী তানিয়া রব। তিনি জেলার রামগতি উপজেলার চরবাদাম গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আ স ম আবদুর রব বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব; ১৯৭১ সালের ২ মার্চ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।

হলফনামা অনুযায়ী, তানিয়া রব স্নাতক পাশ করেছেন। তাঁর আয় ও সম্পদ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

সম্পদ ও আয় বিবরণতানিয়া রবআ স ম আবদুর রবতুলনা (গুণে)
বার্ষিক আয়৮২,৯২,০১১ টাকা২৫,৯৯,৭৬০ টাকা৩.১৯ গুণ
মোট সম্পদ১৪,০৮,০৯,৮৮৭ টাকা১,৬৫,১৪,৪০৩ টাকা৮.৫ গুণ
ব্যাংকে নগদ২,৪৮,৯৬১ টাকা১৬,৪২,৭২৬ টাকা০.১৫ গুণ
শেয়ার ও বন্ড৫,৭৫,০৩,০০৩ টাকা১,০০,০০,০০০ টাকা৫.৭ গুণ
বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ৪৫,০০,০০০ টাকা৩০,০০,০০০ টাকা১.৫ গুণ
গাড়ির মূল্য৬১,৬৫,০০০ টাকা
স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতু৫০ ভরি১০ ভরি৫ গুণ
আসবাব ও অন্যান্য১০,০০,০০০ টাকা১০,০০,০০০ টাকাসমান
স্থাবর সম্পত্তি১,২৯,২৬,৪৩৩ টাকা
স্থাবর সম্পত্তি থেকে আয়১৪,৭২,২২৬ টাকা
আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আয়৬৮,১৯,৭৮৫ টাকা
শেষ বছর আয়কর২৩,২০,৭০৮ টাকা৩,৪৭,৬০০ টাকা৬.৭ গুণ

তানিয়া রবের অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখাচ্ছে যে, তিনি ব্যবসায়ী হিসেবেও অত্যন্ত সক্রিয়। ব্যাংক, বন্ড, শেয়ার, স্থায়ী আমানত এবং স্থাবর সম্পত্তি থেকে তিনি নিয়মিত অর্থ আয় করছেন। অন্যদিকে, আ স ম আবদুর রবের সম্পদ মূলত উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এবং বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ।

এই তথ্যগুলো প্রকাশ্যে আসার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হচ্ছে। তানিয়া রব একজন একক নারী প্রার্থী হিসেবে জেলা ও দলের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।