স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে কুচকাওয়াজ ও বিমান প্রদর্শনী

আজ, ২৬ মার্চ ২০২৬, জাতি উদযাপন করেছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, যা দেশের ইতিহাস ও সাহসী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মাধ্যমে উদযাপিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ভব্য কুচকাওয়াজ এবং বিমান প্রদর্শনী, যা সকাল ৯:৩০ মিনিটে জাতীয় কুচকাওয়াজ চত্বরে শুরু হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

দর্শকসভার জন্য অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং দেশের পাশাপাশি বিদেশী অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন। সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী জনসংযোগ দফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, কুচকাওয়াজটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। দর্শক প্রবেশের জন্য গেট ২, ৩, ৪, ১০ এবং ১১ নির্ধারণ করা হয় এবং নিরাপত্তার কারণে ব্যাগ নেওয়া নিষিদ্ধ ছিল।

সকালের ৬:০০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারা নীরব শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন এবং সুসংগঠিত গার্ড অব অনার প্রদর্শিত হয় সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে। এরপর প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শহীদদের প্রতি নিজেদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এই বছরের কুচকাওয়াজ পরিচালিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সুপারভিশনে, এবং বাস্তবায়িত হয়েছে নবম ইন্সফ্যান্ট্রি ডিভিশন দ্বারা। ২০০৮ সালের পর ১৮ বছরের বিরতির পর কুচকাওয়াজ পুনরায় আয়োজন করা হলো, যা দেশের ঐতিহ্য ও জাতীয় গর্বের প্রতীক।

স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উদযাপনের তথ্য

অনুষ্ঠানসময়স্থানপ্রধান অতিথিগুরুত্বপূর্ণ তথ্য
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা৬:০০ a.m.সাভাররাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বাহিনীনীরব শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, গার্ড অব অনার প্রদর্শনী
কুচকাওয়াজ ও বিমান প্রদর্শনী৯:৩০ a.m.জাতীয় কুচকাওয়াজ চত্বররাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, তিন বাহিনী প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ, বিদেশী অতিথিগেট ২, ৩, ৪, ১০, ১১ থেকে প্রবেশ; ব্যাগ নিষিদ্ধ
আয়োজনের তত্ত্বাবধানসশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নবম ইন্সফ্যান্ট্রি ডিভিশনমুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন

কুচকাওয়াজে অংশ নিয়েছে সেনা ইউনিট, নৌবাহিনী পদযাত্রা দল, বিমানবাহিনীর ফ্লাইপাস্ট দল এবং বিশেষ রেসকিউ ইউনিট। ফ্লাইপাস্টে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার, লাইট এয়ারক্রাফট এবং ট্রেইনার জেট প্রদর্শনীতে অংশ নেন। দর্শকরা বিমানের সমন্বিত ভলিউম, রঙিন ধোয়া শো এবং উচ্চ গতির প্রদর্শনী দেখে অভিভূত হন।

এই অনুষ্ঠান দেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মত্যাগ, জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক। এটি দেশের প্রতিটি নাগরিককে জাতীয় চেতনা, সাহস ও গর্বের বার্তা প্রদান করে।