স্বর্ণের দামে স্থিতিশীলতা, রুপার দামও অপরিবর্তিত

দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম টানা কয়েকদিন ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার (২০ নভেম্বর) সামান্য পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) আর কোনো নতুন সমন্বয় ঘোষণা করেনি। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বাজুসের সর্বশেষ ঘোষিত দাম অনুযায়ী দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য সামঞ্জস্য এবং বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে সাম্প্রতিক সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়াও, গহনার নকশা, মান ও কাজের জটিলতা অনুযায়ী চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যে মজুরি ও অন্যান্য খরচ যোগ করা হয়।

নিচের টেবিলে দেশের বাজারে স্বর্ণের সর্বশেষ দাম তুলে ধরা হলো:

স্বর্ণের ক্যারেটপ্রতি ভরির দাম (টাকা)
২২ ক্যারেট২,০৮,১৬৭
২১ ক্যারেট১,৯৮,৬৯৬
১৮ ক্যারেট১,৭০,৩১৮
সনাতন পদ্ধতি১,৪১,৬৪৮

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গহনা তৈরির ক্ষেত্রে স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার নকশা, আকার ও মানভেদে মজুরি পরিবর্তিত হতে পারে। অর্থাৎ, যেকোনো গহনার চূড়ান্ত মূল্য নির্ভর করবে কাঁচামালের দাম এবং কাজের জটিলতার ওপর।

রুপার দামও টানা কয়েকদিন ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। দেশের বাজারে রুপার সর্বশেষ মূল্য নিম্নরূপ:

রুপার ক্যারেটপ্রতি ভরির দাম (টাকা)
২২ ক্যারেট৪,২৪৬
২১ ক্যারেট৪,০৪৭
১৮ ক্যারেট৩,৪৭৬
সনাতন পদ্ধতি২,৬০১

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম স্থিতিশীল থাকায় দেশীয় বাজারেও দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়াও, স্থানীয় বাজারের চাহিদা এবং ভোগ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কারণে বাজুস নতুন সমন্বয় আনার প্রয়োজন দেখেনি।

বাজার বিশ্লেষকরা আরও জানান, স্থিতিশীল দাম ক্রেতাদের জন্য সুবিধাজনক। এর ফলে ক্রেতারা গহনা কেনার সময় মূল্য ওঠানামার চাপ এড়াতে পারবেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ বা রুপার মূল্য বৃদ্ধি বা হ্রাস ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশীয় বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, স্থিতিশীল স্বর্ণ-রুপার দাম অর্থনীতিতে আস্থা বাড়ায় এবং ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারকে আরো স্বচ্ছ ও পূর্বনির্ধারিত করে তোলে। বিশেষ করে উৎসবকাল ও বিবাহ মৌসুমে এমন স্থিতিশীলতা ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সহজ করে।

বাজুসের এই পদক্ষেপ এবং বাজারের স্থিতিশীল পরিস্থিতি দেশের গহনা শিল্পের জন্য ইতিবাচক। এটি নিশ্চিত করছে যে স্বর্ণ ও রুপার চাহিদা ও সরবরাহ সমন্বয়িত এবং ক্রেতারা নির্ধারিত মূল্যে বিনিয়োগ করতে পারছেন।