ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতির দাবিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টাকে পুনরায় ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করার কঠোর সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে তারা। সোমবার রাজধানীর শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে এসব দাবি তুলে ধরেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
সমাবেশের আগে বিকাল ৩টায় শাহবাগ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে সংগঠনটির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন এবং হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সমাবেশে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরী এবং আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে গণমাধ্যমের সামনে এসে জানাতে হবে, বিচারিক প্রক্রিয়ায় কী কী অগ্রগতি হয়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা সরাসরি বক্তব্য না দিয়ে যদি কেবল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিবৃতি দেন, তবে ইনকিলাব মঞ্চ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
তিনি আরও দাবি জানান, দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকার্য শেষ করতে হবে। এই ট্রাইব্যুনালের কাজে আন্তর্জাতিক মানের গোয়েন্দা সংস্থার কারিগরি সহায়তা নেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি, যাতে তদন্তে স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হয়।
এর আগে দুপুরে শাহবাগে এক সংবাদ সম্মেলনে আল জাবের অভিযোগ করেন, সরকারকে দেওয়া আগের আল্টিমেটাম যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের অনুপস্থিতি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। সরকারের বক্তব্যে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কখনো বলা হচ্ছে খুনিরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, আবার কখনো বলা হচ্ছে তারা দেশের ভেতরেই আছে—এই দ্বিধান্বিত অবস্থান জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, “যদি দাবি করা হয় খুনিরা বিদেশে পালিয়েছে, তবে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা বিচার চাই, বিচারবহির্ভূত কোনো ব্যবস্থা নয়।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অপরাধী শনাক্তে যদি আন্দোলনকারীদেরই ভূমিকা নিতে হয়, তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ফাতেমা তাসনিম জারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিচার দাবি জানানো হলেও কার্যকর অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাই না বলেই ধৈর্য ধরছি, কিন্তু এই ধৈর্যেরও সীমা আছে।” তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
নেতারা জানান, ওসমান হাদি আজীবন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে কথা বলেছেন। তার হত্যার বিচার নিশ্চিত করা শুধু একটি সংগঠনের নয়, বরং জনগণের নৈতিক দায়িত্ব। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।
ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান দাবিসমূহ (সংক্ষেপে):
| বিষয় | দাবি |
|---|---|
| গ্রেপ্তার | হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার |
| অগ্রগতি প্রতিবেদন | ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গণমাধ্যমে বিস্তারিত জানানো |
| বিচারিক ট্রাইব্যুনাল | দ্রুত গঠন |
| বিচার সময়সীমা | সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবস |
| তদন্ত সহায়তা | আন্তর্জাতিক মানের গোয়েন্দা সহায়তা |
| আন্দোলন | দাবি না মানা পর্যন্ত অব্যাহত |
ইনকিলাব মঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।
