পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের একাদশে কোনো পরিবর্তন না থাকলেও ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকারকে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটি অনেক দর্শক ও ক্রিকেট বিশ্লেষকের কাছে বিস্ময়ের বিষয় ছিল। গত বছরের অক্টোবর মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে সৌম্য শেষ ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হলেও পাকিস্তান সিরিজের তিন ম্যাচে একটিতেও সুযোগ পাননি।
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন,
“আমরা চাই খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত সময় সুযোগ দেওয়া হোক। সৌম্য শেষ সিরিজে দুর্দান্ত খেলেছে, কিন্তু সাম্প্রতিক কিছুদিন তার ছন্দ ছিল না। তাই আমরা ওপেনিং জুটি হিসেবে তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসানকে নির্বাচিত করেছি।”
সৌম্যের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। বিসিএলের ওয়ানডে সংস্করণের তিনটি ম্যাচে তার রান কখনো দুই অঙ্কের পৌঁছায়নি। সিরিজ শুরুর আগে বিসিএল অলস্টারস একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ২২ বল খেলেও মাত্র ১১ রান করেছিলেন। তাই অধিনায়কের পরিকল্পনায় ছিল তানজিদ–সাইফ জুটি দিয়ে ওপেন করা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে তানজিদ–সাইফ জুটি ওপেনিং করেছে, যেখানে তানজিদ সিরিজ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সাইফের প্রথম দুই ম্যাচের রান যথাক্রমে ৪ ও ১২। মিরাজ ব্যাখ্যা করেন,
“সাইফকে বসিয়ে সৌম্য খেলালে দুইজনের আত্মবিশ্বাসের জন্য সমস্যা হতো। যদি সৌম্য খারাপ খেলত, তার জন্যও কঠিন হতো।”
মিরাজ আরও বলেন, “যে খেলোয়াড় সুযোগ পাবে, তাকে দীর্ঘ সময় সুযোগ দেওয়া হবে। আমরা চাই খেলোয়াড়রা নিজেই বুঝুক, যদি খারাপ খেলে তাহলে হয়তো জায়গা অন্যকে দিতে হবে। তানজিদকে শেষ সিরিজে এক ম্যাচও না রাখার উদাহরণ আমরা দেখেছি।”
বাংলাদেশ দলের জন্য এই বছর ওয়ানডেতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের সূচিতে রয়েছে আরও ১৯টি ওয়ানডে। বিশ্বকাপে সরাসরি যোগ্যতার জন্য র্যাঙ্কিংয়ে পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ। মিরাজ বলেন,
“প্রত্যেক সিরিজ এবং প্রত্যেক ম্যাচ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের লক্ষ্য হলো সিরিজ ও ম্যাচ জেতা।”
পাকিস্তানের বিপক্ষে ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করার পর, বাংলাদেশের ওয়ানডে র্যাঙ্কিং হালনাগাদ অনুযায়ী ১০ থেকে ৯-এ উন্নীত হবে।
সাম্প্রতিক ওপেনিং পারফরম্যান্স
| ম্যাচ | ওপেনিং জুটি | রান | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| বিসিএল প্রস্তুতি | সৌম্য–তানজিদ | ১১ (২২ বল) | রান কম, ছন্দে নেই |
| ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ | সৌম্য | 85, 74, 102 | শেষ ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় |
| পাকিস্তান সিরিজ ১ | তানজিদ–সাইফ | ৪, ১২ | সাইফ প্রথম ম্যাচে রান পেলেন না |
| পাকিস্তান সিরিজ ২ | তানজিদ–সাইফ | ৫২, ৪৫ | ধারাবাহিক ভালো শুরু |
| পাকিস্তান সিরিজ ৩ | তানজিদ–সাইফ | ৮১, ৬২ | তানজিদ সিরিজ সেরা |
এই নীতি দেখাচ্ছে, বাংলাদেশ দল খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক সুযোগ দিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো ও পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
