মধ্যপ্রাচ্যে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, সৌদি আরব ইসলামের দুটি পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনাকে নজিরবিহীন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে রক্ষা করছে। ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মোকাবিলায় দেশটি তাদের আকাশসীমা বহুমাত্রিক (মাল্টি-লেয়ারড) প্রতিরক্ষা জাল দিয়ে সজ্জিত করেছে, যা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। সাম্প্রতিক ঘটনায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করে সৌদি প্রতিরক্ষা বিভাগের সক্ষমতা প্রদর্শিত হয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তির বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা
সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষার মূল স্তম্ভ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে মার্কিন প্রযুক্তির প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ (Patriot PAC-3) সিস্টেম। এটি স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। পবিত্র নগরীর আশেপাশে শত শত ইন্টারসেপ্টর ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষার দ্বিতীয় স্তর হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে THAAD (Terminal High Altitude Area Defense) সিস্টেম। ২০২৫ সালের শুরুতে মক্কা ও জেদ্দার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় THAAD ইউনিটগুলো কার্যক্রম শুরু করেছে, যা উচ্চগতিসম্পন্ন ও দূরপাল্লার মিসাইলকে আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম।
দক্ষিণ কোরিয়ার K-SAM Block II মোবাইল সিস্টেম তৃতীয় স্তর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি বিমান ও মিসাইল উভয় লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম। এর মোবাইল ক্ষমতার কারণে জরুরি অবস্থায় দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করা যায়।
ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্ত করা হয়েছে চীনের ৩০ কিলোওয়াট ফাইবার-অপটিক লেজার, যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আকাশে থাকা যেকোনো ছোট ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম। সর্বশেষ প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে SkyGuard 35 মিলিমিটার কামান, যা রাডার-নিয়ন্ত্রিত ও ধারাবাহিকভাবে ড্রোন বা মিসাইলকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে।
সাম্প্রতিক সফল প্রতিরক্ষা অভিযান
| তারিখ | স্থান | হামলার ধরন | ধ্বংসকৃত লক্ষ্য |
|---|---|---|---|
| ২০২৬ ফেব্রুয়ারি | আল-খারজ প্রদেশ | ক্রুজ মিসাইল | ১টি মিসাইল ভূপাতিত |
| ২০২৬ ফেব্রুয়ারি | রিয়াদ | ড্রোন | ৩টি ড্রোন ধ্বংস |
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বহুমাত্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পবিত্র শহরগুলোর আকাশ সর্বদা নিরাপদ রাখা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিভিন্ন স্তরের সমন্বয় সৌদি আরবকে যেকোনো আকস্মিক হামলার মোকাবিলায় সক্ষম করেছে।
মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার এই ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক স্তরে একটি উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, প্রস্তুতি এবং কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে অতি গুরুতর হুমকিও কার্যকরভাবে প্রতিহত করা সম্ভব।
