সৌদি আরবের আল-খার্জ এলাকায় রবিবার রাতে একটি আবাসিক কম্পাউন্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা মধ্যপাড়া গ্রামের মোশারফ হোসেন (৩৮) নিহত হয়েছেন। নিহত মোশারফ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কাজ করছিলেন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য দেশের বাইরে ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর মাত্র অর্ধঘণ্টা আগে মোশারফ হোসেন তার বড় ছেলে মাহিমের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন। সেই সময় তিনি ঈদের কাপড়চোপড় কেনার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা পাঠানোর কথাও জানিয়েছেন। এরপরই কম্পাউন্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে তিনি প্রাণ হারান।
মোশারফ হোসেনের স্ত্রী কবরী আক্তার বলেন, “আমি এখন কীভাবে দুই সন্তানকে নিয়ে চলব, বুঝতে পারছি না। আমাদের এখন কে দেখবে?” নিহতের বাবা মো. সুজাত আলী বলেছেন, “আমার ছেলেকে আর পাব না। অন্তত তার লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা হোক, যেন শেষবারের মতো তাকে দেখা যায়।”
সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্থানীয়রা জানান, মোশারফের সঙ্গে কাজ করা সহকর্মীরা তার মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল রনী জানিয়েছেন, “মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সকল ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।”
মোশারফ হোসেনের পরিবার ও শিক্ষাজীবন সম্পর্কিত তথ্য নিম্নে তুলে ধরা হলো:
| নাম | বয়স | সম্পর্ক | বর্তমান অবস্থান / শিক্ষা |
|---|---|---|---|
| মোশারফ হোসেন | ৩৮ | স্বামী ও পিতা | সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত |
| কবরী আক্তার | ৩৫ | স্ত্রী | দেশে, শোকাহত |
| মাহিম | ১৪ | বড় ছেলে | স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণি |
| মিহান | ৬ | ছোট ছেলে | মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণি |
| মো. সুজাত আলী | ৬৫ | বাবা | মৃত সন্তানের শোকগ্রস্ত |
পরিবার জানিয়েছে, মোশারফ প্রায় আট বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। দুই বছর আগে সর্বশেষ দেশে এসেছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু পরিবার ও গ্রামবাসীর মধ্যে গভীর শোক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা নিহতের জন্য দোয়া করছেন এবং সরকারের সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছেন।
সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। মোশারফ হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
