আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে দামের ওঠানামা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে সোনার দামে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেলেও দিন শেষে আবার দামের কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়। এর আগে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় স্বর্ণ দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছিল, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছিল।
জিএমটি সময় দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ৪,১৫৬.৮৯ মার্কিন ডলার রেকর্ড করা হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার্স মার্কেটে ডিসেম্বর ডেলিভারির সোনার দাম কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৪,১৫৪.৪০ ডলার প্রতি আউন্সে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি বড় ধরনের পতন না হলেও স্বর্ণবাজার যে এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি, তারই ইঙ্গিত দেয়।
এই দামের ওঠানামার পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা। বিনিয়োগকারীরা এখন গভীর নজর রাখছেন—ডিসেম্বর মাসে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় কি না। সাধারণত সুদের হার কমলে ডলারের শক্তি দুর্বল হয় এবং তখন স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে। আবার সুদের হার অপরিবর্তিত থাকলে বা বাড়ার আভাস মিললে স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়।
বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক জুলিয়াস বেয়ারের বিশ্লেষক কারস্টেন মেনকে বলেন,
“অক্টোবর মাসে স্বর্ণের যে বড় ধরনের দরপতন হয়েছিল, তার পরবর্তী সমন্বয় প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে ইতিবাচক দিক হলো—স্বর্ণ এখনও ৪,০০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব সরাসরি পড়ছে বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারেও। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২,০৮,১৬৭ টাকা দরে। এর আগে ২০ নভেম্বর এক দফায় ১,৩৫৩ টাকা দাম কমানো হয়েছিল।
বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের সর্বশেষ দাম
| ক্যারেট | প্রতি ভরি দাম (টাকা) |
|---|---|
| ২২ ক্যারেট | ২,০৮,১৬৭ |
| ২১ ক্যারেট | ১,৯৮,৬৯৬ |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৭০,৩১৮ |
| সনাতন | ১,৪১,৬৪৮ |
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ডলারের গতিপথ—সবকিছু মিলিয়েই স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হচ্ছে। ফলে স্বর্ণে বিনিয়োগ করতে হলে স্বল্পমেয়াদি লাভের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করাই এখন বুদ্ধিমানের।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সোনার দাম এই মুহূর্তে এক ধরনের “দোলাচলে” রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সামান্য পরিবর্তনও দেশের বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতা—উভয়েরই উচিত বাজার পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
