সৈয়দ শহীদুল হক জামাল (আনু. ১৯৪৪–১৮ মার্চ ২০২০) বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার রাজনীতিবিদ ও সাবেক হুইপ যিনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন।
Table of Contents
সৈয়দ শহীদুল হক জামাল । বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

প্রাথমিক জীবন
সৈয়দ শহীদুল হক জামাল আনু. ১৯৪৪ সালে পিরোজপুরের বানারীপাড়ার উদয়কাঠি ইউনিয়নের লবণসাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে।
রাজনৈতিক জীবন
সৈয়দ শহীদুল হক জামাল বিএনপি চেয়ারপারসনের- উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও পিরোজপুর জেলা সভাপতি ছিলেন। তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ও বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ছিলেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি প্রথমে মেহেরপুর ও পরে পিরোজপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীও ছিলেন।
তিনি তৎকালীন বাকেরগঞ্জের সহিত পিরোজপুর আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের সহিত পিরোজপুর থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ওয়ান ইলেভেনের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে তিনি চিহ্নিত হয়ে বহিষ্কার হন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলে বরিশাল-২ ও পিরোজপুর-১ আসনে নির্বাচন করার জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে তিনি পিরোজপুর-১ আসন থেকে পরাজিত হয়ে ছিলেন। ১৯৬৫ সালে তিনি প্রথমে উদয়কাঠী ইউনিয়ন সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন।

মৃত্যু
সৈয়দ শহীদুল হক জামাল ১৮ মার্চ ২০২০ সালে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। আজিমপুর গোরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
সংসদ সদস্য
সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।
পরিচিতি
সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।
বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান
সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন।
সাধারণত সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।
সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।
আরও দেখুনঃ