সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ এবারও শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা শিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছে। চলতি বছর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন কলেজের ৪৯ জন শিক্ষার্থী। কয়েক বছর ধরে এই কলেজের ধারাবাহিক সাফল্যে আনন্দিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা মেধা তালিকায় নিজ জায়গা করে নিয়েছেন। তবে কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ আশা করছেন, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
অধ্যক্ষ জানান, চলতি বছর কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২৯৭ জন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেন এবং ১০০% পাশ করেছেন। এর মধ্যে ২৭০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। ২৭০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এবার ৪৯ জন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের কলেজের ধারাবাহিক সাফল্য সুপরিচিত। ২০২৫ সালে ৫৩ জন, ২০২৪ সালে ৫৯ জন, ২০২৩ সালে ৪২ জন, ২০২২ সালে ৩৯ জন, ২০২১ সালে ৪০ জন, ২০১৯ সালে ৩৬ জন এবং ২০১৮ সালে ৩৮ জন শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর বুয়েট, রুয়েট, কুয়েট, চুয়েটসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখে।”
কলেজটি ১৯৬৪ সালে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কের পাশে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পূর্বের নাম ছিল সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি মহাবিদ্যালয়। ২০২০ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এটি নতুন নামে নামকরণ করে। কলেজে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান হয়। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান শাখা অনন্যভাবে পরিচালিত হয়। শিক্ষকরা দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস নেন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। এই নিবিড় তদারকি এবং চাপমুক্ত পরিবেশ শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও পারিবারিক নীতিতে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠান শতভাগ মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ধারাবাহিক সফলতা নিশ্চিত হচ্ছে। আমাদের সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং শিক্ষক-কর্মীদের আন্তরিক তদারকির ফলে শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ফলাফল করছে।”
সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের মেডিকেল ভর্তি সংক্রান্ত তথ্যসংক্ষেপ:
| বছর | মেডিকেল কলেজে ভর্তির সংখ্যা | মোট বিজ্ঞান শিক্ষার্থী (HSC) | জিপিএ–৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী |
| ২০২৫ | ৪৯ | ২৯৭ | ২৭০ |
| ২০২৪ | ৫৯ | – | – |
| ২০২৩ | ৪২ | – | – |
| ২০২২ | ৩৯ | – | – |
| ২০২১ | ৪০ | – | – |
| ২০২০ | – | – | – |
| ২০১৯ | ৩৬ | – | – |
| ২০১৮ | ৩৮ | – | – |
