সেলিম আলতাফ জর্জ একজন উদীয়মান বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ এবং কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এবং একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত।
Table of Contents
জন্ম ও পারিবারিক ঐতিহ্য
সেলিম আলতাফ জর্জ কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার এক রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার কুষ্টিয়া অঞ্চলে আওয়ামী লীগের ভিত গড়ার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।
পিতা-মাতা: তাঁর পিতা প্রয়াত আলতাফ হোসেন কিরণ ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্কুলশিক্ষক। তাঁর মাতা মমতাজ বেগম একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক এবং বর্তমানে কুমারখালী মহিলা পরিষদের সভানেত্রী হিসেবে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। সেলিম আলতাফ কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ গোলাম কিবরিয়ার দৌহিত্র। তাঁর চাচা আবুল হোসেন এবং চাচি সুলতানা তরুণও সংসদ সদস্য হিসেবে এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আরেক চাচা সামছুজ্জামান অরুণ কুমারখালী পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষাজীবন ও পেশা
তিনি কুষ্টিয়া থেকে তাঁর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষায় আইনের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন এবং সফলভাবে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন (নির্বাচনি হলফনামায় তিনি ব্যারিস্টার ডিগ্রি উল্লেখ করেন নি))। রাজনীতিতে পূর্ণকালীন সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি পেশায় একজন আইনজীবী ছিলেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ (২০১৮): ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুষ্টিয়া-৪ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভ করেন। জয়লাভ করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
একনজরে সেলিম আলতাফ জর্জ
| বিষয় | তথ্য |
| নাম | সেলিম আলতাফ জর্জ |
| পেশা | আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ |
| রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ |
| নির্বাচিত আসন | কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) |
| পারিবারিক পরিচয় | শহীদ গোলাম কিবরিয়ার দৌহিত্র |
| উল্লেখযোগ্য পদ | সাবেক সংসদ সদস্য (একাদশ সংসদ) |
বিতর্ক:
কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ এবং তাঁর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের খবর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কালবেলায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিমুল খানসহ কুমারখালী ও খোকসা আওয়ামী লীগের প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী তাঁর রোষানলে পড়ে জেল-জুলুম ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানা যায়। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সংসদ সদস্যের নির্দেশেই তাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হতো, যা স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে চরম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়।
এসব মামলার বাইরেও সেলিম আলতাফ জর্জের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ব্যারিস্টার’ পরিচয় ব্যবহার করার মতো গুরুতর নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘকাল ধরে তিনি নিজেকে ব্যারিস্টার হিসেবে পরিচয় দিলেও অনুসন্ধানে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও আভিজাত্যকে পুঁজি করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি জনসেবার চেয়ে নিজ বলয় রক্ষা এবং বিরোধীদের দমনেই বেশি মগ্ন ছিলেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি রাজধানী থেকে গ্রেফতার হন এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি হয়ে বর্তমানে তিনি রিমান্ড ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন। তাঁর এই পতনকে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিজ দলের কর্মীদের ওপর নিপীড়নের অনিবার্য পরিণতি হিসেবেই দেখছেন।