সেনেগাল ট্রফি প্যারেডে অভ্যন্তরীণ বিতর্কও উপেক্ষা

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ট্রফি নিয়ে মাঠে প্যারেড করা এবং দুই তারকাখচিত জার্সি পরা—সেনেগালের ফুটবল দল এমন সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে যা মহাদেশীয় ফুটবলের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং মরক্কোর আইনি হুঁশিয়ারির পরও অবিচল থাকে।

শনিবার প্যারিসের স্টাদ দ্য ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচে সেনেগাল দলটি এ দৃশ্যের মাধ্যমে সমর্থকদের সামনে নিজেদের দাবী পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। দলটির অধিনায়ক কালিদু কুলিবালি ট্রফি হাতে নিয়ে পুরো দলসহ মাঠের চারপাশে ঘুরে প্রেসিডেন্ট বক্সে পৌঁছে ট্রফি রাখেন। গোলকিপার এদুয়ার্দো মেন্দি ট্রফি হাতে থাকেন এবং দলের সঙ্গে সমর্থকদের সামনে প্রমাণ করেন যে, তারা এখনও নিজেদের চ্যাম্পিয়ন মনে করছে।

সেনেগালের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ফুটবলের আইন ও নিয়মের সঙ্গে আপাতদৃষ্টিতে সাংঘর্ষিক। জানুয়ারি ২০২৬ সালে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারানোর পর সেনেগাল চ্যাম্পিয়ন হয়। কিন্তু দুই মাস পর কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (CAF) তাদের শিরোপি বাতিল করে মরক্কোকে জয়ী ঘোষণা করে। মরক্কোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সেনেগাল যদি ট্রফি প্রদর্শন করে তবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুই দেশের মধ্যে মূল বিষয়টি হলো ১৮ জানুয়ারি রাবাতের ফাইনালে সেনেগাল ম্যাচের মাঝপথে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা।
CAF-এর আপিল বোর্ড ১৭ মার্চ ঘোষণা করে, সেনেগাল ‘ওয়াকওভার দিয়েছে’ এবং সেজন্য মরক্কোকে ৩-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সেনেগাল এই সিদ্ধান্তকে ‘নগ্ন প্রশাসনিক চুরি’ আখ্যা দিয়ে সর্বোচ্চ ক্রীড়া আদালত CAS-এ আপিল করে।

ট্রফি প্যারেড ও জার্সি প্রদর্শনের বিস্তারিত

বিষয়তথ্য
অনুষ্ঠান স্থানস্টাদ দ্য ফ্রান্স, প্যারিস
তারিখ২৮ মার্চ ২০২৬
অধিনায়ককালিদু কুলিবালি
গোলকিপারএদুয়ার্দো মেন্দি
ট্রফি প্রদর্শনের ধরণমাঠের চারপাশে প্যারেড, প্রেসিডেন্ট বক্সে স্থাপন
জার্সিদুই তারকাখচিত জার্সি (২০২১ ও ২০২৬)
খেলোয়াড়দের উপস্থিতিকুলিবালি, সাদিও মানে, মেন্দি বিশ্রামে, বদলি তালিকায়ও নয়

ট্রফি প্যারেডের পর সেনেগাল পেরুর বিপক্ষে ম্যাচে অংশ নিলে ২-০ গোলে জয় লাভ করে। উল্লেখযোগ্য যে, মূল তারকারা ছিলেন বিশ্রামে এবং পরিবর্তনের তালিকাতেও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তাদের দুই তারকাখচিত জার্সি অতীত ও সাম্প্রতিক আফ্রিকান শিরোপার স্মারক হিসেবে সমর্থকদের সামনে প্রদর্শিত হলো।

CAF-এর সিদ্ধান্ত এবং মরক্কোর আইনি হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও সেনেগাল দল তাদের নিজস্ব দাবী দৃঢ়ভাবে প্রদর্শন করেছে। এটি আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা, যেখানে প্রশাসনিক ও আইনি বাধা সত্ত্বেও দলটি সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করেছে।

সেনেগালের এই পদক্ষেপ ক্রীড়া জগতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সমর্থক আন্দোলন এবং দলীয় মর্যাদার মধ্যে সংঘাতের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।