নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ রবিবার বিকেলে উপজেলার বীজবাগ ডিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যার ফলে একটি শ্রেণিকক্ষের মূল্যবান আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে পুরো বিদ্যালয় ভবনটি।
অগ্নিকাণ্ডের বিবরণ ও ক্ষয়িক্ষতি
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বকশিরহাট সংলগ্ন বীজবাগ ডিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আজ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনের নিচতলার একটি কক্ষ থেকে আগুনের ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বকশিরহাট বাজারের লোকজন ছুটে এসে বালু ও পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। একই সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করা হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নুরুল কাউছারের দেওয়া তথ্যমতে, আগুনে নিচতলার একটি পূর্ণাঙ্গ শ্রেণিকক্ষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই কক্ষের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চ, শিক্ষকদের টেবিল-চেয়ার ও সিলিং ফ্যান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে কক্ষের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং ধোঁয়ায় পাশের কক্ষগুলোও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
নিচে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সম্পদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রদান করা হলো:
| ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের বিবরণ | পরিমাণ/অবস্থা |
| শিক্ষার্থীদের বেঞ্চ | ১৪ জোড়া (সম্পূর্ণ ভস্মীভূত) |
| বৈদ্যুতিক পাখা | ৩টি (অকেজো ও পুড়িয়া যাওয়া) |
| শিক্ষকদের আসবাব | ১টি টেবিল ও ৩টি চেয়ার |
| ভবনের কাঠামো | একটি কক্ষের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে |
| শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ | ধোঁয়ায় দেয়াল কালো হয়ে গেছে |
কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা ও তদন্ত
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সেনবাগ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্তব্যরত কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছ জানিয়েছেন, তারা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ভবনে সক্রিয় বিদ্যুৎ সংযোগ থাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়েছে। সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। যেহেতু এই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল, তাই যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে নাশকতার কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ এই ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করেছে।
নির্বাচন ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গের ব্যাখ্যা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ভোটকেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ড হওয়া বীজবাগ ডিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সরাসরি ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত না হলেও একই সীমানার ভেতরে অবস্থিত বীজবাগ এন কে উচ্চবিদ্যালয়টি একটি নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র। ফলে একই কম্পাউন্ডের ভেতরে এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে পুলিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, পুড়ে যাওয়া ভবনটি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল না।
অগ্নিকাণ্ডের পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত না হয়। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং পুনরায় পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
