সেই পেনাল্টি আজও পোড়ায় রবার্তো বাজ্জোকে

‘শৈশব থেকেই স্বপ্ন দেখতাম, একদিন ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলব। কেন সেই স্বপ্ন লালন করতাম, তা নিয়ে আমার মনে কোনো স্পষ্ট স্মৃতি নেই। স্বপ্ন তো স্বপ্নই, তার ব্যাখ্যা প্রয়োজন নেই।’

এই কণ্ঠের মালিক, ইতালির কিংবদন্তি মিডফিল্ডার রবার্তো বাজ্জো, যিনি আজও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে এক আলাদা স্থান দখল করে আছেন। বাজ্জো ৫৯তম জন্মদিনের আগে ফোর্বস ইতালিয়ার এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের অমূল্য স্মৃতি এবং হাহাকার উন্মোচন করেন।

তিনি বলেন, “আমি সবসময় নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ হিসাবেই দেখেছি। অন্য যে কোনো মানুষের মতোই আমি। তবে এক জিনিসের উপর আমার নিয়ন্ত্রণ নেই—ফুটবলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। এই ভালোবাসা এতটাই গভীর যে, সকাল থেকে রাত কাটে শুধু ফুটবল নিয়ে ভাবতে ভেবে। একসময় আমি ফুটবল নিয়ে ঘুমোতাম।”

বাজ্জোর বিশ্বকাপ যাত্রা

বাজ্জো তিনবার ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছেন। ইতালির অর্জন ও বাজ্জোর অবস্থান নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

বিশ্বকাপবছরইতালির অবস্থানউল্লেখযোগ্য ঘটনা
১৯৯০তৃতীয়নিজেদের মাঠে তৃতীয় স্থানমুভমেন্ট ও মিডফিল্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
১৯৯৪রানার্সআপফাইনালে টাইব্রেকার হারশেষ পেনাল্টি মিস, বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভঙ্গ
১৯৯৮শেষ-৮ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায়শেষ আট থেকে বিদায়, বাজ্জোর অভিজ্ঞতা প্রমাণিত

তিনটি বিশ্বকাপেই বাজ্জো দেখিয়েছেন তাঁর দক্ষতা ও ধৈর্য। তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্তের জন্ম হয় ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ ফাইনাল-এ। সেই ম্যাচে টাইব্রেকারে তাঁর শেষ পেনাল্টি মিসের ফলে ইতালি চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। বাজ্জো সেই মুহূর্তের বেদনাকে ‘অবিশ্বাস্য ট্র্যাজেডি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি স্মৃতিকথায় বলেন, “ফাইনালের আগের রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে শুধু একটিই চিন্তা মাথায়—কীভাবে বিশ্বকাপ জিতব। হয়তো আমার বাইসাইকেল কিক দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে। কিন্তু এক মুহূর্তে স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। আজও সেই কষ্ট বয়ে বেড়াই।”

বাজ্জোর এই কথাগুলো ফুটবলপ্রেমীদের মনে স্মৃতির গভীর চিহ্ন রেখে যায়। তাঁর জীবন আমাদের শিখিয়েছে, কেবল প্রতিভা বা চেষ্টা নয়, স্বপ্ন এবং তার সাথে যুক্ত ব্যথাও মানুষের জীবনের অঙ্গ। সেই পেনাল্টি মিস, যা ফুটবল ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয়, বাজ্জোকে শুধু হেরে দেয়নি, বরং তাঁকে এক লিজেন্ডে পরিণত করেছে।