সূচকের পতনে শেষ হলো সপ্তাহ: ডিএসইতে লেনদেন নামল ৩৬৪ কোটি টাকায়

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সবকয়টি মূল্যসূচকের ওপর। এই পতনের দিনে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। বাজারটিতে এদিন যে পরিমাণ অর্থের শেয়ার হাতবদল হয়েছে, তা গত ১৩ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন। ঢাকার মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে এবং সেখানেও সবকয়টি মূল্যসূচক নিচের দিকে নেমে গেছে। যদিও সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বাড়তে দেখা গেছে।

সপ্তাহজুড়েই বাজার অস্থিতিশীল ছিল। সপ্তাহের প্রথম দুই দিন টানা দরপতন হয়। এরপর তৃতীয় দিনে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও চতুর্থ দিন বুধবার থেকে আবারও পতনের ধারায় ফিরে আসে। বৃহস্পতিবার সকালে লেনদেন শুরু হলে সূচকে কিছুটা আশার আলো দেখা যায়। শুরুতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু এই ইতিবাচক অবস্থা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। লেনদেনের আধা ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই বিক্রির চাপে বাজার নিম্নমুখী হতে শুরু করে। সময় যত গড়িয়েছে, পতনের পাল্লা ততই ভারী হয়েছে। দিনশেষে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় সূচকের বড় পতন দিয়ে দিনের কার্যক্রম শেষ হয়।

বাজারের পরিসংখ্যান ও লেনদেনের চিত্র নিচে ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

খাত/বিবরণতথ্য
ডিএসইএক্স সূচককমেছে ৪০ পয়েন্ট (বর্তমান অবস্থান ৪,৯২৭)
ডিএসই শরিয়াহ সূচককমেছে ৯ পয়েন্ট (বর্তমান অবস্থান ১,০২৪)
ডিএসই-৩০ সূচককমেছে ৬ পয়েন্ট (বর্তমান অবস্থান ১,৮৯১)
মোট লেনদেন৩৬৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা
লেনদেন কমেছে৪১ কোটি ৪ লাখ টাকা (আগের দিনের তুলনায়)
দাম কমা কোম্পানি৩০৭টি

ডিএসইতে এদিন মোট ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩৪টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৩০৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে এবং ৪৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলোর মধ্যেও দরপতন প্রকট ছিল। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৬৮টির দাম কমেছে। টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, যার ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিডি থাই ফুডের ১৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা শাহজিবাজার পাওয়ারের ১২ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। গত ১৭ নভেম্বরের পর ডিএসইতে এটিই ছিল সর্বনিম্ন লেনদেনের রেকর্ড।