সুবর্ণচরে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন অভিযান

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের দুটি নির্বাচনি অফিসকে ভ্রাম্যমাণ আদালত অর্থদণ্ড দিয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের আল-আমীন বাজারে পরিচালিত এই অভিযান নির্বাচনী পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু রাখার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছেনমং রাখাইন। তিনি জানান, উভয় অফিসে বিধি বহির্ভূতভাবে আলোকসজ্জা এবং রঙিন পোস্টার স্থাপন করা হয়েছে। এই কারণে দুই দলের অফিসকে ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখাই আমাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব। যারা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”

অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও অন্যান্য যৌথ বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত নির্বিঘ্নে কাজ করতে সক্ষম হয় এবং বাজার ও আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখা সম্ভব হয়।

জরিমানার বিস্তারিত তথ্য নিম্নরূপ:

দল ও অফিসের নামঅভিযোগজরিমানা (টাকা)
বিএনপি নির্বাচনি অফিসআলোকসজ্জা ও রঙিন পোস্টার লাগানো৫,০০০
জামায়াত ইসলামী নির্বাচনি অফিসআলোকসজ্জা ও রঙিন পোস্টার লাগানো৫,০০০

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি রক্ষা এবং ভোটের পূর্বে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত মাঠে কাজ করছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় অবৈধ কার্যক্রম—যেমন প্রার্থীর প্রচারণার বাইরে আলোকসজ্জা, রঙিন পোস্টার, উচ্ছৃঙ্খল সভা বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা—প্রতিরোধে এই ধরনের অভিযান অপরিহার্য।

স্থানীয়রা প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “নির্বাচনের সময় সবকিছু সুষ্ঠুভাবে চললে সাধারণ মানুষ ভয়মুক্তভাবে ভোট দিতে পারবে। এমন অভিযান আমাদের জন্য আশ্বস্তকরণমূলক।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার ছেনমং রাখাইন আরও জানিয়েছেন, “ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চলবে। নির্বাচনী অফিস ও প্রার্থীদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যারা বিধি লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু থাকবে।”

প্রশাসনের এই পদক্ষেপ স্থানীয় দায়িত্বশীলতার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের পূর্বাভাস এবং প্রচারণার সময় শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটকে স্বাধীন ও সুষ্ঠু রাখতে প্রশাসন এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করার জন্য কর্মশালা, সচেতনতামূলক প্রচারণা ও মিডিয়ার মাধ্যমে তথ্য সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে ভোটাররা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং প্রতিটি প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের আচরণ নিয়ন্ত্রিত থাকবে।