সুপ্রীম কোর্ট প্রকল্পে নির্বাহী বরখাস্ত

লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন গত মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. সাইফুজ্জামান দায়িত্বকালীন সময়ে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ (W-1 প্যাকেজ) সিভিল কাজের জন্য সরকারি অনুমোদন ছাড়া কাজ পরিচালনা করেছেন। প্রকল্পটিকে তিনি বিধি-বহির্ভূতভাবে ৮টি আলাদা প্যাকেজে বিভক্ত করেছেন এবং আন্তর্জাতিক ই-টেন্ডার (e-GP) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা খরচ করেছেন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, ওই আটটি প্যাকেজের বিলের সঙ্গে প্রকৃত কাজের মিল নেই। প্রকল্পের জন্য নিয়োজিত প্রধান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ছাড়া অন্য আটটি প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো প্রকৃত কাজ না করেও বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এটি সরকারি অর্থের অপব্যবহার, ক্ষমতার দুরুপযোগিতা এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি চাকরি আইনের প্রেক্ষিতে, মো. সাইফুজ্জামানকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বরখাস্তকালে তিনি তার বিধিসম্মত ভাতা পাবেন।

প্রকল্প ও ব্যয় সংক্রান্ত তথ্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

項目বিবরণ
দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তামো. সাইফুজ্জামান
প্রকল্পবাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট রেকর্ড ভবন নির্মাণ
প্যাকেজ নামW-1 (অনাবাসিক ভবন)
প্রকৃত খরচ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা
প্যাকেজ সংখ্যা৮টি বিভক্ত প্যাকেজ
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (প্রধান), অন্যান্য ৮টি প্রতিষ্ঠান নামে খরচ দেখানো
অর্থব্যয় বছরের সময়কাল২০২৩-২০২৪ অর্থবছর
বরখাস্তের তারিখ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভাতা প্রদানের অবস্থাআইন অনুযায়ী প্রদান হবে

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনা দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিষয়টি একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।