সুন্দরবনের গভীর অঞ্চল থেকে বন দস্যু ‘নানা ভাই বাহিনী’-এর কবল থেকে ১০ দিনের জিম্মি জীবনের পর ছয় জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। মুক্তিপণ দাবিতে আটক থাকা জেলেদের নিরাপদে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা এই অভিযান স্থানীয় ও জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত কার্যকারিতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট আশিকুর ইসলাম ইমন জানান, “সুদৃঢ় তথ্য সংগ্রহ ও লক্ষ্যভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে তৎপর অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জেলেরা নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের পরিবারের কাছে দ্রুত হস্তান্তর করা হবে।”
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, ৭ মার্চ সুন্দরবনের তিনটি মাছ ধরার নৌকা থেকে ছয় জেলেকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারী ‘নানা ভাই বাহিনী’-এর বন দস্যু সদস্যরা ছিলেন, যারা মুক্তিপণ দাবি করে তাদের আটকে রাখে। জেলেদের মধ্যে ছিলেন শফিকুল, আল আমিন, ইসমাইল, রেজোয়ান, মিয়ারাজ ও রমজান।
উদ্ধার অভিযান শুরু হয় সোমবার, যখন স্থানীয় ব্যক্তি কবির কোস্টগার্ডকে অপহরণের বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মঙ্গলবার ভোরে জেলেরা নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কোস্টগার্ডের এই উদ্যোগকে দক্ষ পরিকল্পনা ও সমন্বিত তৎপরতার ফলাফল হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।
উদ্ধারকৃত জেলেদের সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| নাম | নৌকা সংখ্যা | অপহরণের তারিখ | উদ্ধার তারিখ | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| শফিকুল | ১ | ৭ মার্চ | ১৭ মার্চ | নিরাপদ, পরিবারের কাছে হস্তান্তর |
| আল আমিন | ১ | ৭ মার্চ | ১৭ মার্চ | নিরাপদ, পরিবারের কাছে হস্তান্তর |
| ইসমাইল | ২ | ৭ মার্চ | ১৭ মার্চ | নিরাপদ, পরিবারের কাছে হস্তান্তর |
| রেজোয়ান | ২ | ৭ মার্চ | ১৭ মার্চ | নিরাপদ, পরিবারের কাছে হস্তান্তর |
| মিয়ারাজ | ৩ | ৭ মার্চ | ১৭ মার্চ | নিরাপদ, পরিবারের কাছে হস্তান্তর |
| রমজান | ৩ | ৭ মার্চ | ১৭ মার্চ | নিরাপদ, পরিবারের কাছে হস্তান্তর |
লেফটেন্যান্ট ইমন আরও জানান, “উদ্ধার অভিযান চলাকালীন নিরাপত্তা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। জেলেদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য ও মানসিক সমর্থন নিশ্চিত করে তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, কোস্টগার্ডের দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপে তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তারা পুনরায় নিরাপদে নদীতে মাছ ধরার কাজে ফিরতে পারছেন। উদ্ধারকৃত জেলেদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক সমর্থন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।
কোস্টগার্ড এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে বনদস্যু কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তৎপরতা অব্যাহত রাখতে এবং সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
