সুন্দরবনে দস্যু আটক, অস্ত্র-গোলাবারুদ জব্দ

সুন্দরবন অঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত দয়াল বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় অভিযানে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি একনলা বন্দুক ও চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে দয়াল বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য রসদ সরবরাহ করতেন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির নাম আব্দুল হালিম (৩৬), তিনি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, দয়াল বাহিনীর ওই সদস্য রসদ সরবরাহের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনে প্রবেশ করবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কোস্ট গার্ডের বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান যৌথভাবে খুলনার দাকোপ থানাধীন শিবসা নদী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় আব্দুল হালিমকে আটক করা হয়।

অভিযানের পর আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্য অনুসারে দুপুর ১টার দিকে দাকোপ থানার টাকাতোলা খাল সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে একটি একনলা বন্দুক ও চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ডের দেওয়া তথ্যানুসারে, আব্দুল হালিম দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে সক্রিয় দয়াল বাহিনীর সঙ্গে জড়িত থেকে ডাকাতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছিলেন। তিনি বাহিনীটির জন্য অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য রসদ সরবরাহ করতেন। জব্দ করা অস্ত্র ও কার্তুজ এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কোস্ট গার্ড আরও জানায়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে তারা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাবে। এই ধরনের অভিযান স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং বনাঞ্চলের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হচ্ছে।

নিচের টেবিলে অভিযান ও উদ্ধারকৃত সামগ্রীর সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হলো:

তারিখঅভিযান এলাকাআটক ব্যক্তির নামউদ্ধারকৃত সামগ্রীসময়
১০ মার্চ ২০২৬শিবসা নদী, দাকোপ থানাআব্দুল হালিম (৩৬)সকাল ১০টা
১০ মার্চ ২০২৬টাকাতোলা খাল সংলগ্ন এলাকাএকনলা বন্দুক, ৪ রাউন্ড কার্তুজদুপুর ১টা

কোস্ট গার্ডের এই উদ্যোগ সুন্দরবনের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।