সুন্দরবনের লোনাপানিতে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে চার জেলে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত হয়েছেন। অপহৃতদের মুক্তির জন্য মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। গত শুক্রবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা রেঞ্জের আঠারবেকি এলাকার একটি খালে এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, কুখ্যাত দস্যু আলিম বাহিনীর সদস্যরাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত চারজন জেলেই নিয়মমাফিক পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। শ্যামনগর উপজেলার বড়ভেটখালী গ্রামের ইউসুফ গাজী জানান, তিনি ২০ নভেম্বর কৈখালী স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে নিজের নৌকায় মরগাং গ্রামের ইব্রাহিম শেখ ও আনিস শেখকে সঙ্গে নিয়ে সুন্দরবনে যান। একই সময়ে পৃথক অনুমতিপত্র নিয়ে মরগাং গ্রামের হাসান শেখ এবং বড়ভেটখালী গ্রামের আবদুল গাজীও বনে প্রবেশ করেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় আঠারবেকি ভাইজো খালে কাঁকড়া ধরার সময় দস্যুরা তিনটি নৌকা ঘিরে ফেলে এবং সেখান থেকে চার জেলেকে জোরপূর্বক তুলে নেয়। পরে দস্যুরা জেলেদের পরিবারের কাছে বার্তা পাঠিয়ে জানায়, প্রত্যেকের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে দিলে অপহৃতদের মুক্তি দেওয়া হবে।
গতকাল রবিবার ভোরে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পর দস্যুরা হাসান শেখকে একটি নৌকায় তুলে ছেড়ে দেয়। সকাল ৯টার দিকে তিনি বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন। তবে বাকি তিন জেলে এখনো দস্যুদের কবলে রয়েছেন বলে পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শ্যামনগর মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাসেম মোরেল বলেন, সুন্দরবনে দস্যুতা আবারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি ভেটখালী ও মরগাং গ্রামের একাধিক জেলে আঠারবেকি এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয়দের কাছে তথ্য রয়েছে। এতে জেলেপল্লিগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কর্মকর্তা হক জানান, অনেক সময় জেলেরা বা তাঁদের পরিবার বন বিভাগকে সরাসরি জানায় না। মহাজন বা পরিবার নিজেরাই মুক্তিপণ দিয়ে জেলেদের ছাড়িয়ে আনেন, পরে বিষয়টি জানা যায়। তিনি বলেন, দুর্গম বনাঞ্চলে দ্রুত অভিযান চালানো কঠিন হলেও বনদস্যু দমনে একটি স্মার্ট পেট্রোল টিম ও দুটি বিশেষ দল সক্রিয় রয়েছে। নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
জিলাইভ/টিএসএন
