সুনামগঞ্জে ধর্ষণ ঘটনায় দুই গ্রেফতার

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় এক গৃহবধূকে ঘরে একা পেয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) গভীর রাতে সদর উপজেলার লালপুর এলাকায়। পরবর্তীতে রোববার (১২ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে মকছদ আলী (৪৫) এবং একই গ্রামের মৃত হাসু মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩২)।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, লালপুর গুচ্ছগ্রামে ওই রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজ বাড়িতে একা অবস্থান করছিলেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি তার স্বামীর খোঁজ জানার অজুহাতে ঘরে প্রবেশ করে। এরপর তারা ঘরে একা থাকা অবস্থায় ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা পরে তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের বরাতে জানা যায়, তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীর স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করে। ধারাবাহিক তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের পর রোববার রাত ১১টার দিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে সোমবার দুপুরে তাদের সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আরিফ উল্লাহ জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং তদন্তের ভিত্তিতে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার প্রধান তথ্যগুলো নিচে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়তথ্য
ঘটনার তারিখ ও সময়শুক্রবার (১০ এপ্রিল), গভীর রাত আনুমানিক ১২টা
স্থানলালপুর, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা
অভিযোগসংঘবদ্ধ ধর্ষণ
গ্রেফতারের তারিখ ও সময়রোববার (১২ এপ্রিল), রাত ১১টা
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিমকছদ আলী (৪৫), ইয়াছিন মিয়া (৩২)
আহত/ভুক্তভোগীএক গৃহবধূ
চিকিৎসা অবস্থাসুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন
আইনগত ব্যবস্থাগ্রেফতার শেষে আদালতে সোপর্দ

ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।