ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াউ সোয়ে মোকে তলব করেছে। এটি ঘটে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আগত অপ্ররোচিত গোলাগুলির ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিক আহত হওয়ার পর। বিশেষত, টেকনাফের ৯ বছর বয়সী শিশু হুজাইফা আফনান গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রদূতকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে গুলি চালানো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুষ্ঠু সম্পর্কের জন্য বাধা। বাংলাদেশ মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সীমান্ত সংঘর্ষ এড়াতে তারা পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যকলাপ কখনোই বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না। বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত কিয়াউ সোয়ে মো বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তার সরকার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং আহত শিশুর পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
এছাড়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) টেকনাফ সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ হানিফ গুরুতর আহত হন, যার ফলে তাঁর বাঁ পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুটি ঘটনা সীমান্তে নিরাপত্তা ও সতর্কতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক সীমান্ত ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তারিখ ও সময় | স্থান | আহত ব্যক্তি | বয়স | ঘটনা বিবরণ | চিকিৎসা কেন্দ্র |
|---|---|---|---|---|---|
| ১১ জানুয়ারি, সকাল ৯টা | হোয়াইক্যং ইউনিয়ন, টেকনাফ | হুজাইফা আফনান | ৯ | মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সীমান্তে গুলি দ্বারা আহত | চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল |
| ১২ জানুয়ারি, সকাল | হোয়াইক্যং সীমান্ত, টেকনাফ | মোহাম্মদ হানিফ | ২৮ | স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাঁ পা ক্ষতিগ্রস্ত | স্থানীয় হাসপাতাল |
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হুজাইফা আফনানের শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। বাংলাদেশ সরকার বারবার জোর দিয়ে জানিয়েছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না এবং সীমান্তে এমন অপ্ররোচিত হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
