সীতাকুণ্ডে ২৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি অবৈধ জ্বালানি তেল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ২৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের সিডিএ আবাসিক গেইট সংলগ্ন এলাকায় গোপনে পরিচালিত একটি তেল ডিপো থেকে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ স্থানকে ব্যবহার করে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত, পরিবহন ও বাজারজাত করে আসছিল।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে থানা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের সমন্বিত সহযোগিতায় তিনটি লরি ট্যাংকে সংরক্ষিত অবস্থায় থাকা ডিজেল উদ্ধার করা হয়। অভিযান চলাকালে পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয় যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এই অবৈধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানা ও পরিবহন খাতে তুলনামূলক বেশি দামে জ্বালানি সরবরাহ করে বিপুল মুনাফা অর্জন করছিল। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে তারা একটি অস্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতি তৈরি করছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনের বেলায় ডিপোটি প্রায় নিস্তব্ধ থাকলেও রাতের আঁধারে সেখানে তেল স্থানান্তর ও লেনদেনের কার্যক্রম চলত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিকবার প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ায় চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

অভিযান শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দ করা ডিজেল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নিশ্চিত করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা রক্ষায় অবৈধ মজুত বা সিন্ডিকেট কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন মনে করছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে জ্বালানি বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং অবৈধ সিন্ডিকেটের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

জব্দকৃত জ্বালানির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বিষয়তথ্য
জব্দকৃত তেলের পরিমাণ২৫ হাজার লিটার ডিজেল
অভিযান এলাকাসলিমপুর ইউনিয়ন, সীতাকুণ্ড
সংরক্ষণ পদ্ধতিতিনটি লরি ট্যাংক
অভিযান সময়সোমবার, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা
নেতৃত্বউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
সংশ্লিষ্ট সংস্থাপ্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন

এই অভিযানকে স্থানীয়রা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।